December 19, 2015

Homecoming...


Once upon a time in a timeless zone, I was waiting for you.
A homecoming is still awaited.
Only you and I have been replaced...

December 4, 2015

Caged


December 2, 2015

আনটাইটেল্ড্


November 27, 2015

Sea full of Sky

সূর্যের কাঁচা সোনা যেথা রূপসাগরে মেশে...

November 16, 2015

Will inequality ever die?


October 12, 2015

Abandoned


October 5, 2015

Best friend's death


September 28, 2015

Ati Sundar!


For the first time I guess, Modi doesn’t know where the camera is! But he definitely knows where the WiFi is.
Ati Sundar! ;)

August 28, 2015

পায়েস পুরাণ

আহা... কনকনে শীতের সকাল
কুয়াশার মায়াজাল
আর...
গরম গরম নলেন গুড়ের পায়েস...
কিন্ত এ কি!!!

“আরে রসটা তো গায়ে পড়ছে!” সুনয়নার সু-নয়ন দুখানি রাগে জ্বলে উঠলো হঠাৎ।
কি মুশকিল! সাতসকালবেলা এসব কেউ আনে!” আরও একটু জোর পেলো সুনয়নার সুমধুর গলা।

“রেগে যাস ক্যানো? জল দিয়ে ধুয়েনে আর পায়েসটা খেয়ে দেখ।”
“নাহ্! অনেক হয়েছে... আর লাগবেনা!”- রীণা দেবীর অনুরোধ প্রত্যাক্ষান করেই সুনয়নার দ্রুত প্রস্থান, পরের স্টেশনে নামবে যে।

“মেয়েটার তো বড্ড রাগ! নাহয় একটু রস-ই পরেছে গায়ে তা বলে মায়ের বয়সী একজনকে এভাবে মুখ করবে? আরে আমরা রোজ এক ট্রেনে যাই আসি! আজকালকার জেনারেশানটাই এমন।”

পাশের সিটের সবিতা দেবী নিজের ক্ষোভ প্রকাশে ব্যস্ত। আর রীণা দেবী? চোখের জল আর পায়েসের বাটি সামলাতে। দুটোরই প্রায় ছলছল অবস্থা যে...

“আমার মেয়েটা বেঁচে থাকলে... জন্মদিনের পায়েসটা ওকেই খাওয়াতাম” বাইরে শীতের ঝলমলে রোদ তবু রীণা দেবীর মনে তখন শ্রাবণের আঁধার...

লাঞ্চবক্স ভর্তি পায়েস আবার সযত্নে প্যাক করতে করতে রীণা দেবীর চোখে পড়ল একজোড়া দ্রুত এগিয়ে আসা ফ্যান্সি স্যান্ডল।

“আরে... নামবিনা? স্টেশন ঢুকে যাবে তো!” নিদারূণ বেগে হঠাৎ ফিরে আসা সুনয়নাকে প্রশ্ন করলেন রীণা দেবী।

“ওটা পায়েস না? আগে বলবেতো! এমনভাবে প্যাক করেছো য্যানো সাজিয়ে রাখবে!”–বলেই সুনয়না চুপ। কথা বলতে বলতে কোনো উপাদেয় জিনিস খেতে নেই জানো না? তাই এখন স্পিকটি নট!

“আর একটু খা...” ট্রেনের জানলা দিয়ে উঁকি মেরে উদ্বিগ্ন রীণা দেবী বললেন “এখনো স্টেশন ঢোকেনি।”
কিন্ত সুখ যে দীর্ঘস্থায়ী হয় না। তাই স্টেশনটাও হুড়মুড়িয়ে চলেই এল।

“আর না! উফ্ আমার ডায়েট গেলো... এবার স্টেশন-ও যাবে... এলাম কাকিমা... Awesome!”–বলতে বলতেই গেটের দিকে দৌড় লাগালো সুনয়না।

স্টেশনে নেমে জানলার কাছে এসে আরও একবার হাত নেড়ে গেলো মেয়েটা। রীণা দেবীর চোখে আবার জল... তবে এবার কারণটা অন্য। পায়েসভর্তি লাঞ্চবক্সের সাথে তাঁর মনের ভার ও যে কমে গেল খানিকটা।
ছবি সৌজন্য : গুগল বাবাজি

August 5, 2015

ঝড়

সামনে এম এস ওয়ার্ড খোলা। সাদা পাতাটায় লেখার আছে কত কিছু। মন উজার করেঠিক কাল বিকেলের বৃষ্টির মত, আকাশ ভেঙ্গে। সেইভাবেই হঠাৎ ভেঙ্গে পড়তে ইচ্ছে হল। কিন্ত‍ু কি লাভ ভেঙ্গে পড়ে? সে কি হাতের মুঠোয় যত্ন করে কুড়িয়ে নিতে আসবে?

সে যে কিছুই জানে না। কাল বিকেলের বৃষ্টির ফোঁটাগুলি বৃথাই বয়েছিল। তাঁর পা ভিজেছিল, মন ভেজেনি মোটে

কার? সেই যে তাঁর, ওই ঝাপসা কাঁচের দেওয়ালের পারে যার কর্মকর্তার স্থাননা জানি কত ওয়ার্কিং আওয়ার্স ধরে এই এম এস ওয়ার্ড-এর সাদা পাতায় তোমাকে মনের রঙে আঁকছি... তুমি বুঝবেনা। ভীষণ নিষ্ঠুর তুমি, বাইরে ওঠা ঝড়ের মত...

ভেঙ্গে পড়তেও সাহস লাগেলাগে জমিয়ে রাখা একরাশ গর্জন। আমার না আছে সাহস না গর্জাবার জোরআছে শুধু এই সাদা পাতা।

বাইরে ওঠা ঝড়ের তোড়ে মন যখন অশান্ত, শুধু সাদা পাতাটাই তখন শান্ত। শুন্য ও একাতুমি কি কোনদিনও বুঝবেনা?

***

সেই তখন থেকে কম্পিউটারের দিকে তাকিয়ে কী ভাবছে? আমার কথা? ধুস! সে কপাল আমার কই। থাকলে কি আর...

বড্ড দেরী হয়ে গেল তোমায় খুঁজে পেতে। গত চার দশকের চল্লিশটা বসন্ত নষ্ট হয়ে গেলঠিক কাল বিকেলে বৃষ্টি যেমন বয়েছিল বৃথামুঠোয় তো ধরতে চেয়েছিলাম পারলাম কই...

শুধু পা ভেজেনি কাল, মন তলিয়েছিল অতলেতুমি বুঝবেনা। তোমার বয়স যে বড় কম।

***

তুমি তাকিয়ে থাকো কেন? তুমিও কী তবে মনের পাতায় আমার ছবি আঁকো?

শুধুই তাকিয়ে থাকোতোমার চোখে নেই প্রেম। কিন্ত‌ু দেখেছি অপ্রেম

আমি মেয়ের বয়সী বলে? নাকি তুমি বিবাহিত বলে?

শুধুই তাকিয়ে থাকা। মনের পাতায় ছবি আঁকা। সমাজ এড়িয়ে চলা।

নাহ্... এই বৃষ্টি বৃথাই বয়ে যাক

***

মেঘ করেছে আবার। জানলার বাইরে ঝড়।

শুধুই কী বাইরে? ঝড় ওঠেনি মনের কোনে?

সেই যবে ওই “মেয়ের বয়সী” মেঘটি জমল মনের আকাশে সেদিন তো ঝড় এসেছিল। তুমি বোঝোনি

এখনও স্ক্রীনের দিকেই শান্ত দৃষ্টি তাঁর ওই ঝড়ের মতই গর্জে উঠতে হঠাৎ ইচ্ছে হলমন বলছে নামুক বৃষ্টি, ভাসিয়ে দিক সমাজ। ভঙ্গ হোক আমাকে অশান্ত করা তোমার শান্তি

কিন্ত‍ু কী লাভ বৃষ্টি ঝড়িয়ে?

সে তো হাতের মুঠোয় যত্ন করে কুড়িয়ে নিতে আসবেনা। ভাববে আমি বিবাহিত।

ভীষণ নিষ্ঠুর তুমি, এই সমাজের মত...

ছবি সৌজন্য: গুগল

June 29, 2015

খারাপবাসা ২


সখী তোমায় দেব বলে বৃষ্টি এনেছি
হাজার যুগের ব্যস্ততা,
তবু...
একচিলতে অবসর এনেছি

June 19, 2015

মেঘ


মেঘ জমেছে ঈশান কোনে?
সখী কইল মনে

June 15, 2015

পটা পল্লবী এবং পেঁয়াজি

ছবি সোজন্য : আনন্দবাজার
পাতলা করে কাটা বেগুনের ফালির গায়ে পটুত্বের সাথে ফ্যাটানো ব্যাসনের কোমল আদর। তারপর ডুবো তেলের উষ্ণ তত্ত্বাবধানে বেগুন ও ব্যাসনের ক্রিস্পি সম্বনয়। মুচমুচে ভাজা গরম বেগুনী অ্যাট ইওর সার্ভিস...

বর্ষামাখা সবুজ সন্ধ্যাবেলা এমন একটা উত্তেজক দৃশ্য দেখে কি আর বেগুনী খাওয়ার লোভ সামলানো যায়?

কখনই না!
          
Preparing telebhaja is an art. শিল্প, বুঝলি।

বেগুনী মন্ত্রে মুগ্ধ হয়ে দিব্যঞ্জানটা দিল পটা। চোখ তার তখনও বন্ধ। যেন সকল ইন্দ্রিয় দিয়ে বেগুনীর মোহময়ী আস্বাদ ধরে রাখার আপ্রাণ চেষ্টা করছে।

How unhygienic! এসব ভাজাভুজি খাস বলেই তো...”

“থাম তুই! বর্ষার ঝিমঝিমে সন্ধ্যাবেলায় এই পারফেক্ট বেগুনীর উষ্ণতা যে কী তা তোর মত ডায়েটের দাসত্ব স্বীকার করা লোকজন কী আর বুঝবে?”

পটার অকাট্ট যুক্তি পল্লবীর কোঁচকান ভ্র-কে একটুও সোজা করতে পারল না।

আরও দুটো পেঁয়াজি হাতে অবশেষে পটা তেলেভাজার দোকান ত্যাগের কঠিন সিদ্ধান্ত নিল।
                 
“ফুলুরিটাই বা ছাড়লি কেন???” "আনহাইজিনিক" তেলেভাজার উদ্দেশ্যে পল্লবীর বিদ্রুপ কেমন যেন ঝাল চাটনির মত ধেয়ে এল।

“তোর কী ক্ষিদে পেয়েছে? চাইলে দিতে পারি।” অফারটা রিজেক্টেড হবে যেনেও পটা ভদ্রতার খাতিরে করেই ফেললো।

How can you eat something like this?” এত তেল! তাও কি তেল কেউ জানেনা।

“স্বাদ তো জানলিনা তাই তেল নিয়ে তোর এত চিন্তা। এ হল কিনা গিল্টি প্লেজার। গিল্টি কিন্ত‍ু প্লেজার তো।”

পল্লবী এবার আরও ক্ষেপে যাচ্ছে। পটা কিন্ত‍ু পেঁয়াজি সাধনায় ব্যাস্ত।

চশমা পড়ার অনেক উপকারীতা... তার একটা পটা হঠাৎ অবিষ্কার করল পেঁয়াজিতে কামড় বসাতে গিয়ে। চশমার উপর দিয়ে, আড়চোখে বেশ স্পাইগিরি করা যায় কিন্ত‍ু।

তা স্পাই পটার কি চোখে পড়ল? লোলুপ দৃষ্টি, হেল্থ কনসাস পল্লবীর।

“এবার আমার পেটখারাপ হবেই।”

“হুঃ এতক্ষণে হুঁস হল?” পটার কমেন্টের উত্তরে পল্লবীর দীর্ঘশ্বাস ভেঁসে এল।

পটাও ছেড়ে দেওয়ার পাত্র নয়, “হ্যাঁরে, এতক্ষণে যে রিয়ালাইজ করলাম তুই লোভ দিচ্ছিস!”

“আমি???” পল্লবীর মুখ বিষ্ময়ে হাঁ!

“এবার আর পেটখারাপ হবে না।” পল্লবীর বিষ্মিত হাঁ মুখে পটা সুযোগ বুঝে টুক করে পেঁয়াজির টুকরোটা চালান করে দিল।

“আরে...” পল্লবী চিৎকার করল ঠিকই কিন্ত‌ু পেঁয়াজিটা ফেলে দিল না।

“কেমন?” চশমার ফাঁক দিয়ে পটার আবার উঁকিঝুঁকি।

পল্লবীর এখন খেতে ব্যাস্ত। উত্তর দেওয়ার সময় নাই মোটে।

June 2, 2015

খারাপবাসা


শহরের ক্যাকোফনিতে হারালো শব্দ,
তবু ডেকেছিলাম।
ফিরে তাকাও যদি,
ভেবেছিলাম...

May 27, 2015

#ChildLabor is so uncool! (In advertisements only)

Picourtesy : Twitter

Just a single thud on the table and immediately after that, I saw a little dark kid fleeing into the kitchen. In absolute wonder, I kept looking for those little dark hands and big bright eyes. “Abhi pichhle mahine hi rakkha hai kaam pe”, my aunty explained. Ok, so that little kid is the new “servant” of the house.

After providing us with glasses of water it was time for Raghu to serve us lunch. Yes, apart from the servant’s tag, that little kid with dark skin (and probably a dark future) has a name as well. Surprising! Never knew that a 12 year old, thin like skeleton boy can cook so well!
We enjoyed the meal while Raghu enjoyed washing aunty-ji’s sari. C’mon! He’s a servant. It’s his duty to wash and cook for his master.

Aunty-ji is actually very proud of the fact that she “pays him for all these.” Pays what? Peanuts? Now, whatever money Raghu and many more like him earn is actually of no use to them. That money will either be used to quench the thirst of some drunkard father or to feed the never-ending family. What is left for Raghu himself? Food? Clothes? Education?

This is not right. Right? So we, as the conscientious citizens, must protest against this. But how? May be through Facebook. Or Twitter. Or Instagram. Hey! We can create hashtags like #StopChildLabor or #SaveTheChildren. We can also like, comment, share and tweet each and every post protesting child labor.

A few weeks back, when I saw a bunch of compassionately caring activists protesting against the “racist” ad campaign of Kalyan Jewelers, my faith in humanity (and in Internet of course) was restored. Though, when initially I spotted the hashtag #KalyanJewelers on Twitter I thought it’s some kind of an ad campaign. But no… It was actually a protest. Wise indeed! (psst… Is it true that bad publicity is also publicity?)

Mrs. Beguiling Bachchan disassociated herself from the advertisement. Kalyan Jewelers gravely regretted their “creative” feat and withdrew the ad instantly. But Raghu still cooks and washes at my aunt’s place. Not only one Raghu, but millions of dark, brown, grey, dirty Raghus and Pinkys work at some household, restaurant or factory across our mahan Bharat. They even get trafficked! I’m sure, something is wrong with the Internet. After all, the Facebook and Twitter protest is meant to work.

You know why the protest isn’t still working? Because most of us are too busy criticizing discriminatory VIRTUAL ads that promote child labor over the cup of a masala chai served by some REAL LIFE Raghu.  Unfortunately, this is still the reality in innumerable corners of India. Sometimes I wonder how active is Kailash Satyarthi on Facebook, Twitter or Instagram?

May 11, 2015

মোলেস্টেশান

ছবি সৌজন্য : গুগল
“দাদা একটু সরে দাঁড়ান।”

শব্দগুলো ঠিকমত বোধগম্য হওয়ার আগেই একজন মোটাসোটা মহিলা কোথা থেকে যেন হুড়মুড়িয়ে এসে রোগাসোগা ছেলেটিকে সরিয়ে তার জায়গায় দাঁড়িয়ে পড়ল।
ভারী ব্যাগটা না ফোন? কোনটা কী ভাবে ব্যলান্স করবে ছেলেটি ঠিক বুঝতে পারছিল না। ভিড়ের চোটে ধাক্কা খেয়ে ছেলেটি আরও খানিকটা পিছিয়ে গেল। পিছিয়ে যেতেই আরও এক বিপদ...

“এটা কী হচ্ছে দাদা?” জনৈক নারীকন্ঠের তীব্র গর্জন ভেসে এল ছেলেটির উদ্দেশ্যে।
“সরে দাঁড়ান বলছি!” আবার সেই নারীকন্ঠের ঝাঁঝালো সুর।

বাসে বেশ ভিড়। কোথাও সরার, ঘোরার বা যাওয়ার বিন্দুমাত্র জায়গা নেই। কিন্ত‌ু এখানে যে দাঁড়ানো যাবে না। পাছে মোলেস্টেশানের চার্জ লেগে যায়। ছেলেটি যে আদৌ মোলেস্টার নয়।
           
***
ছবি সৌজন্য : গুগল

একটু একটু ঢুলুনি আসছে... শরীরটা মোটে ভাল নেই যে। হঠাৎ মনে হল সামনে একটা ছায়ামূর্তি এসে দাঁড়ালো।
“দাদা লেডিস সীট।”
পা দুটো কাঁপছে অল্প অল্প, কিন্ত‍ু সীট তো ছাড়তেই হবে...
          
***

এই নিয়ে... না জানি কতবার রুমির মেসেজটা পড়ল সুমিত। এখনও বিশ্বাস হচ্ছে না। এ কী? সুমিতের চোখে জল!!! ছেলেরা আবার কাঁদে নাকি! ব্রেক-আপ তো কত হয়! তা বলে সবাই কী কান্নাকাটি করে?
সুমিত যে বেকার তাতে রুমির কি দোষ? শুধু শুধু ভালবাসার খাতিরে রুমি অমন এক “ওয়েল সেটল্ড্” পাত্রকে হাতছাড়া করবে? অসম্ভব!

সুমিত আর কান্না থামিয়ে রাখতে পারছে না। মোলেস্টেড? হয়ত মেন্টালি...

***

রোজই মালা ট্রেনে ওঠে। পয়সা চায়। কেউ পয়সা দেয়, কেউ দেয় না। কিন্ত‌ু যেটা সবাই দেয় তা হল অদ্ভুত দৃষ্টি।  ওর অদ্ভুত পোশাক, চুলের বেণী, বেমানান গলার স্বর কারোরই যে নজর এড়ায় না। দেখে কেউ মিচকে হাসে। কোথাও থেকে ভেসে আসে ফিসফাস। মালার কানে সবই যায়। কিন্ত‍ু এসবে আর পাত্তা দেবে না বলেই ঠিক করেছে সে।

মাধব থেকে মালা হয়েছে বলেই কী বিটকেল রসিকতার স্বীকার হতে হয়? হয়ত তাই। কিন্ত‍ু মালার তাতে দুঃখ নাই। মানসিক এই মোলস্টেশান মালা আর সইবে না। মন থেকে ঠিক করেই নিয়েছে। এখন আর যে যাই বলুক, যতই ব্যঙ্গ করুক, মালা শুধুই হাসবে।

May 3, 2015

ফ্যাশানের ফ্যাশাদে...

চকচকে একটা টাক এগিয়ে আসছে। সে এমন সুপার সাইন যাকে অগ্রাহ্য করার ক্ষমতা কোন তপস্বী ঋষি মুনিরও নাই। তা ভাল, বয়স যাই হোক ব্রাইট কালার্ড শার্ট আর ওয়েল মেনটেইন্ড টাক তো কেউ চাইলে শো অফ করতেই পারে। কিন্ত‍ু চমকটা তো সেখানে নয়...

সেই সুপার সাইনি টাকমাথা ভদ্রলোকটি যখন আমার পাশে এসে মেট্রোর দরজার দিকে মুখ করে ঘুরে দাঁড়ালেন... চমকটা পেলাম তখন। চকচকে সেই টাকের পিছনে কিছু কেশরাশিও অর্ধচন্দ্রাকারে উপস্থিত, যাতে কিনা সজত্নে বারগ্যান্ডি কালার করা।

তারপর মেট্রোর দরজা খুললো ও সেই “স্টাইলিশ” ভদ্রলোক গিরিশ পার্কে নেমে গটগট করে চলে গেলেন। কিন্ত‍ু নিজের টাক ও রঞ্জিত কুন্তলের উজ্জ্বল প্রতিচ্ছবি আমার মগজে ছেড়ে গেলেন। এরেই বোধ হয় কয় মার-কাটারি ফ্যাশান।

ফ্যাশান কিন্ত‌ু আরও আছে... এই যেমন কোন এক শ্যামবর্ণা সুন্দরীর গাঢ় নীল রঙা ওড়না আর চুলের বেণীতে হলুদ গোলাপ। অথবা রিপড্ জিন্সের সাথে খাদির কুর্তি আর কপালে একটা টিপ।
ছবি সৌজন্য : গুগল বাবাজি

নেহেরু জ্যাকেটের ছোঁয়া কিন্ত‍ু মোদির শহর থেকে মমতার শহরেও লেগে গ্যাছে।
        
ছবি সৌজন্য : গুগল বাবাজি
আর কেউ যদি অতীব উৎসাহে ট্যাটু করায়, with some Sanskrit phrase? দেখার মত হবে বটে।
                                            
কলিকাতার এত রঙ্গ, ফ্যাশানের ফ্যাশাদে ফেসেছে বঙ্গ!

হোক সে পার্টি মুড, কলেজ পাড়া বা আপিসের তাড়া, আজকাল এতরকম ফ্যাশানেবল চমক চোখে পড়ে যে মাঝে মাঝে মনে হয় কলকাতার এ হল কী। কখনও ইম্প্রেসিভ, কখনও বা ডিপ্রেসিভ(এই যেমন সেই টাকধারী কাকু/জেঠু)। এ কেমনতর মায়া?

বাঙালি ধুতি আর আটপৌড়ে শাড়ি ছেড়েছে বহুদিন হল, কিন্ত‍ু এমন জাগরণ যে দেখতে পাব ভাবতেই পারিনি। আসলে পরিবর্তনের সময়টা এতটাই বেশি লাগিয়ে ফেললো যে...

যাক গে, সেসব গিলা-সিকওয়া না হয় থাক, আপাতত কলকাতার এই নতুন ফ্যাশানে মজা যাক।

পরিবর্তনটা তো ফাইনালি হল, নাহয় পোশাকেই সই। তবে এ ভেবো না যে বাঙালির পোশাক থেকে বাবু কালচার বিদায় নিয়েছে। এখনো কিন্ত‌ু আমাদের লুপ্তপ্রায় টিপিকাল বাবুরা ও বিবিরা Priory of Sion-এর মত কোন সিক্রেট সোসাইটি রুপে বিদ্যমান। যদিও তারা সিক্রেট সোসাইটি রুপে চলাফেরা করেন না। একটু চোখ কান খোলা রাখলে উজ্জ্বল দিবালোকেই তাঁদের দেখা যাবে। পুরনো আর নতুন মিলিয়ে এইভাবেই হয়ত চলছে আর চলবে আমাদের ফ্যাশান।

April 27, 2015

নাইটমেয়ার

ঠিক যেন নাইটমেয়ার‌! একজন ভোজনরসিকের কাছে তো বটেই। এ যেন পাকিস্তানের ক্রিকেট টিমের কাছে ভারতের লজ্জাজনক হার। বা ইন্টারনেট ছাড়া বাকি জীবনটা কাটাবার শাস্তি। চরম দুঃস্বপ্ন!
                  
সবচেয়ে বড় শক‍্টা পেলাম তখন যখন দেখলাম সাধের ইলিশ মাত্র ২টাকা কেজি। সে কী আর যে সে ইলিশ, পদ্মার রুপোলী ইলিশ। উফ্... এত গ্ল্যামারাস তো কোন সুন্দরী নায়িকাকেও লাগেনি কখনো...

আর অমন অসাধারণ বিরিয়ানীটা... উহু, যেমন বড় রসাল মাটনের পিস্ তেমনি সুন্দর তাতে আলুর সুবাস। ডিমের উপস্থিতিতে সেই বিরিয়ানীর শাহী রুপ যেন আরো খোলতাই হচ্ছিল। কিন্ত‍ু কোন উপায় নেই... দুর থেকে শুধু দেখাই সার।

তারপর যখন ফুচকার দোকানের পাস দিয়ে যাচ্ছিলাম... সে তো আরেক টর্চার।

টাকায় ৫টা ফুচকা??? এসব বিলাসিতা তো আশির দশকে মিলত হে! ফুচকার আকারগুলো কিন্ত‍ু মোটেই নিরাশাজনক লাগল না। ইস্ যা ভিড়। ‘ওরে দুটো ফুচকা ফাউ দিচ্ছে রে!’ কাকে যেন একটা বলতে শুনলাম। ভাবা যায়? কোথায় ১০ টাকায় ৫টা ফুচকা আর ১ টাকায় ৫টা ফুচকা। আবার দুটো ফাউ! 

কিন্ত‍ু হায়...

বাইরের নিষ্ঠুর জগতের কথা না হয় ছেড়েই দিলাম, বাড়ি যখন ফিরলাম, ফ্রিজটা খুলেই ৪৪০ ভোল্টের ঝটকা খেতে হল। রসগোল্লার পায়েসটা এখনো বেঁচে আছে! ইস্ অমন নলেন গুড়ের মাধুরী মেশান, কাজু-কিশমিশ এর প্রেমে সাজানো পায়েসটা... পাশে ওটা পাটিসাপ্টা না!!! সর্বনাশ!

এরম পালিয়ে পালিয়ে আর কতদিন? ভাবেতে ভাবতেই ভাগ্যিস ঘুমটা ভাঙল আর দুঃস্বপ্নটাও। এ যাত্রায় বেঁচে গেলাম তাহলে। স্বপ্নের হতাশাটা ঘুম থেকে উঠেও বেশ টের পাচ্ছিলাম।

হতাশা দুর করার মাত্র একটাই উপায়। যেমন ভাবা তেমনি কাজ। একলাফে বিছানা ছেড়ে ফ্রিজের সামনে হাজির। ফ্রিজ খুলে পায়েস পেলাম না ঠিকই, কিন্ত‌ু দুটো কাঁচাগোল্লা পেলাম। চোখ বুজে একখানা মুখে পুরে যখন প্রাণভরে চিবোচ্ছি, তখন মনে হল, ভাগ্যিস আমি সত্যিই ডায়েটে নেই। নাহলে স্বপ্নটা বাস্তব হয়েই যেত! এখন ইলিশ যতই মহার্ঘ হোক কিন্ত‍ু সাধ্য সাধনা করে কিনে খাওয়া তো যাবে। বিরিয়ানীর শুধু ঘ্রান নিয়ে অর্ধভোজন করতে হবে না। আর ফুচকাটাও শুধু দুর থেকে দেখে দীর্ঘশ্বাস ফেলতে হবে না। আহ্ কি শান্তি!
ছবি সৌজন্য : গুগল বাবাজি




মোটা যদি কেউ বলে তো বলুক...  ডায়েটিং-এর দুঃস্বপ্ন নৈব নৈব চ!