April 20, 2015

লাল, সোনালি ও ধুসরের আমি

ছবি সৌজন্য : গুগল বাবাজি
লাল আর সোনালি রঙের সামান্য একটা চকলেটের মোড়ক। সেই মোড়কের মুখ্য আকর্ষণ ভিতরের চকলেটটি শেষ হয়ে যাওয়ার পর আর তাঁর কোন দাম থাকে না। এমন একখানা শূন্য মোড়ক ছিঁড়ে ফেলতে কত সময় লাগে? কয়েক মুহুর্ত মাত্র। তবে আমার কেন এতগুলো বছর লেগে গেল?

হাজার দ্বিধা, দন্দ্ব পেরিয়ে ফাঁকা মোড়কটি ছিঁড়ে ফেলার পরও যে স্বস্তি মেলেনি। ওই লাল ও সোনালি রঙগুলি বছরের পর বছর আমাকে তাড়া করে বেড়িয়েছে। প্রত্যেক মুহুর্তে নৃশংসভাবে প্রমান করেছে আমি নস্টালজিক। ভুলে যাওয়া আমার সাজে না। তাই ভুলে যাওয়া যাবে না। অতীতেই আমার বর্তমান।

লাল-সোনালি মোড়কের নস্টালজিয়া। আরও একটা রঙও ছিল না? সেই ধুসর প্রেমের ঝাপসা রঙটা...

দিনটা ঠিক মনে নেই। সময়টাও না। তবে অনুভুতিগুলো দিব্যি মনে আছে। হৃদয় নামক রক্ত-মাংসের আজগুবি যন্ত্রটা হঠাৎ কেমন অযান্ত্রিক হয়ে উঠেছিল সেদিন। হাত পা ঠান্ডা হয়ে আসছিল। বেনিয়াসহকলা বর্হিভুত আরও কত রঙ চোখের সামনে ক্রমশ ভেঁসে উঠেছিল। আমি হাঁটছিলাম, তবে শূন্যে। হয়ত ডানা ছাড়াই উড়তে পেরেছিলাম সেদিন। আর সেখান থেকেই ভুল বোঝার পালা শুরু। প্রায় একদশক পার করে এসে ভুল যখন ভাঙল তখন বুঝলাম... প্রেম ছিল না।

প্রেম ছিল না কোনদিনই। শুধু ছিল সেই লাল-সোনালির ঝুটো ঝলক, জোর করে আমার হাতে ধরানো চকলেটের বিষাক্ততা আর হূদযন্ত্রের বেসামাল অযান্ত্রিকতা। কিছু মিথ্যা অভিমানও ছিল সাথে...

তারপর, একদিন যখন লাল-সোনালির ঝলক ফিকে হল আর ১৫ বছর বয়সের বসন্তের রঙ ধুসর হল, তখন বারান্দায় নিঃশব্দে সন্ধ্যে নেমেছে। সব শূন্য মোড়ক ও আবরণ ছিঁড়ে ফেলার সময় হয়েছে। কিন্ত‌ু সবকিছু যে পার্থিব নয়। ফেলে দিই কি ভাবে? ফেলা যায়নি অনেক কিছু, সেই একরাশ ভাল লাগা, হাত-পায়ের অসাড়তা আর ডানা ছাড়া উড়ে যাওয়া।

আমি আজও উড়ি। চকলেটের মিষ্টতায় তিক্ত প্রেম খুঁজি। তবে বসন্ত আর লাল-সোনালি নেই। আমার বসন্ত ধুসর, হূদয় যান্ত্রিক আর জীবন জড়বাদী। শূন্য ভালবাসার চকচকে মোড়ক কী এইভাবেই ছিঁড়তে হয়?

2 comments: