April 16, 2015

ভয়

যাদবপুর যাবে?”

নাহ্... আমার প্রশ্নটা তো খুব খারাপ না। তাহলে ড্রাইভারটি অমন গোল গোল চোখ করে তাকাচ্ছে কেন?

বইঠিয়েখানিক স্তব্ধতা আর বিরামহীন পান চিবানোর ফাঁকেই মনোসিলেবিক আদেশটি উড়ে এল ড্রাইভারের কাছ থেকে। এমনিতেই রাত হয়ে যাচ্ছে, তার উপর বাড়ি ফেরার তাড়া... নাহলে আর কেন সেক্টর ফাইভ এর শুনসান সড়কে পাগলের মত ট্যাক্সি খুঁজব। কিন্ত‍ু ড্রাইভারটা যেন কেমন... ভয় করছে বড়।

যাহ্! ডেটা-কার্ড তো ফুরিয়েছে। মানে সেফটি অ্যাপটাও চলবে না। এবার? বাবা! বাবাকেই ফোন করি। সর্বনাশ নেটওয়ার্ক-ও তো নেই! কী লাভ এতো টেকনলজির যদি দরকারের সময় কাজেই না লাগে...

ফোনটা সজোড়ে আঁকড়ে বসে আছি। স্পীড ডায়েল বাটন ও রেডি। কিন্ত‌ু ড্রাইভারটা এদিকে তাকাচ্ছেনা... তাহলে কী বুঝতে পেরেছে আমি সজাগ? আরে... স্পীডটা হঠাৎ বেড়ে গেল না ট্যাক্সির?

দাদা একটু আস্তে চালান।গাড়ীর স্পীড কমল বটে, কিন্ত‍ু কোনো উত্তর এলো না....

কেন এত ভয় করছে হঠাৎ? এই রাস্তা দিয়ে তো আমি বহুবার যাতায়াত করেছি। এতো আমারই শহর। যদিও বাইরে ডিসেম্বরের কুয়াশা সব ঝাপসা করে রেখেছে। তাই হয়ত চেনা রাস্তা চিনতে পারছিনা। চেনা গলি, নিজের শহর কিছুই চেনা ঠেকছেনা তাই বলে ভয় করবে কেন?

আরে আরে এটা কোন রাস্তা?” আমার চোখমুখের রঙ কী পাল্টে যাচ্ছে? “শর্টকাট আছে... উ রাস্তায় কাজ হচ্ছে মেট্রোর। জাম হবে

না না! আমি এ হতে দেব না। আমার সম্মান এত সহজে কোনো গুটকা সেবনকারী ড্রাইভারের হাতে আমি ছেড়ে দেব না। এটা যে আমার শহর... এখানে লড়তে আমার কিসের ভয়? এখন বুঝতে পারছি চাকরিসুত্রে আমার দিল্লী যাওয়া নিয়ে বাবার আপত্তির কারন। বাবা যে চায়নি আমিও নির্ভয়া বা বীরার মত হয়ে যাই। কিন্ত‍ু কিসের এত ভয়? আমি মেয়ে বলে? আমি ছেলে হলে কী ভয়টা কম হত? কেন? হাতে যে আংটি টা আছে... ফোনটারও তো দাম.... ডাকাতি?

এবার রাস্তাটা সত্যিই আর চিনতে পারছিনা... ট্যাক্সিটা কেন এত জোরে যাচ্ছে? ফোনও লাগছেনা! তাহলে কী আমার চিৎকার করা উচিৎ? আচ্ছা চলন্ত ট্যাক্সি থেকে ঝাঁপ দিলে খুব লাগবে না? লাগুক! অন্তঃত আমার মান আর প্রাণ তো বাঁচবে। কিন্ত‍ু আমি কেন ভয় পাচ্ছি? ড্রাইভারটা তো কিছু করেনি...

ঔতো! রিয়ার ভিয়্যু মিররটা অ্যাডজাস্ট করল না? তাহলে কী আমাকে দেখছে? নাহ্... আমিতো কোনো উত্তেজকপোশাক পড়িনি। কিন্ত‌ু তাতে কী বা আসে যায়... আর আমি অপেক্ষা করব না। এবার আমি চিৎকার করবই!

ঔ সাইনবোর্ডটা..... ঔতো ৮বি বাসস্ট্যান্ড, কাকুর ফুচকার ঠেলা। পৌছে গেলাম? কখন?

১৯০ টাকা হয়েছে মিটারে। দেখে লিন।এতক্ষনে ধড়ে প্রাণ এল। এত তাড়াতাড়ি পৌছে গেলাম... আর ভাড়াও মিটার অনুযায়ী!

দেখলেন দিদি কত তাড়াতাড়ি পৌছে গেলেন। শর্টকাট না ধরলে আরও আধ ঘন্টা বেশী টাইম লাগত।বলতে বলতে একগাল হাসল ঔ পান চর্বনকারী ড্রাইভার, যাকে আমি এতক্ষন চোর, ডাকাত, মোলেস্টর না জানি কত কী ভেবেছি।

Thank you দাদা....” Thank you শুধু আধ ঘন্টা আগে পৌছানো বা মিটার অনুযায়ী ভাড়া নেওয়ার জন্যই না... Thank you দিদিশব্টার মানে বোঝার জন্য। Thank you প্রমান করার জন্য যে আমার শহরে আমি এখনও সুরক্ষিত...

No comments:

Post a Comment