April 10, 2015

স্মৃতিচারণ

সাবধানে... খুউউউব সাবধানে... এই যাহ্!
শেষমেষ বাঁচানো গেলনা...
লেড়ো বিস্কুটটা। চায়ে ডোবানোর সাথে কেমন মঈদুলকে ধোকা দিয়ে নেতিয়ে পড়ল। উদ্ধার কার্য চালানো সত্বেও নেতিয়ে পড়া লেড়োকে মদুল বাঁচাতে পারল না।
অগত্যা, আরেকটা চা আর দুটো লেড়ো অর্ডার দিল সে।
                     
***

“উফ্, তুই আর পাল্টালি না! এখনও তর্ক করতে করতে সব ভুলে যাস। চায়ে ডোবানো লেড়োটাও!”
হেঃ হেঃ... অসমান দাঁতগুলো বাড় করে একটা ক্যাবলা হাসি দিল মদুল।
“তুই কাকে বলছিস? সেই কফি হাউসের দিনগুলো মনে আছে?”
নিখিলেশের চোখগুলো এবার গোল গোল হয়ে উঠল।
“থামলি তুই!”
দুজনের হাঁসি আর থামায় কে।
“এতদিন তো থেমেই ছিলাম, আজও থামিয়ে দিবি?” – মদুলের চোখের কোণটা কী জ্বলজ্বল করছে?
“হ্যাঁরে, ঢাকা থেকে কবে ফিরলি?” চোখ বুজে চায়ের ভাঁড়ে চুমুক দিয়ে জিঞ্জাসা করল নিখিলেশ।
“হল কয়েক মাস... আর তুই তো প্যারিসে ছিলি। তারপর?”
“তারপর আবার কী... বাংলার ছেলে বাংলায় ফিরে এলাম।”
“হমম... ভালই করেছিস। তা কলকাতায় আছিস ফেসবুকে আপডেট দিসনি যে? তোর টুইটও তো আজকাল দেখিনা। কী ব্যাপার?”
“ভাবছি অ্যাসোশাল হব... সোশাল মিডিয়া আর পোসাচ্ছেনা। সেই জন্যই নো ফেসবুক আপডেট। নো টুইট। কলকাতা ফিরেই আগে তোর বাড়ি গেলাম। তোকে নিজের মুখে জানাব বলে যে আমি আছি।”
“বেশ করেছিস। আরও দুটো চা বলি? এখানে কিন্ত‍ু অমলেটটাও বেশ করে।”
“তা বল... আড্ডাটা আজ জমিয়েই হোক তবে। কফি হাউসে না এই চায়ের দোকানেই।”

***

“দুদিন পর এলে আমাকে আর পেতিস না...”
“আবার কোথায় পাড়ি দিবি মঈদুল?”
Not yet decided.” মঈদুলের উত্তরে নিখিলেশ চমকাল না মোটে।
“তুই যে ভবঘুরে তা জানা আছে। আমিও ভাবি যে গ্লোবট্রটার হয়ে যাব।”
“আজ যদি ডিসুজা, রমা, সুজাতা আর অমলটাও থাকতো...” মঈদুলের চোখ আবার ছলছল করে উঠল।
“কিন্ত‍ু আমরা দুজন তো আছি। আর থাকবো। এই আড্ডাটা ঠিক বাঁচিয়ে রাখবো দেখিস।” মঈদুলের হাতটা এবার শক্ত করে ধরল নিখিলেশ।
অনেক হল কান্নাকাটি... এবার একটা সেল্ফি হয়ে যাক? তুই নাহয় অ্যাসোশাল, আমি কিন্ত‍ু না। Let the world know that we still exist.
“ঠিক ঔ মাটির ভাঁড়ে চায়ের সোঁদা গন্ধের মত?”
“একদম!” নিখিলেশকে আশ্বাস দিল মঈদুল।

No comments:

Post a Comment