April 9, 2015

ক্যালকাটা ট্রান্সপোর্ট – অ্যাট ইওর সার্ভিস!

কি হতে পারে যদি হঠাৎ করে একদিন শরীরে রক্তচলাচল বন্ধ হয়ে যায়?মৃ্ত্যু অনিবার্য ঠিক একই রকম অবস্থা হয় একটা শহরের যখন পরিবহন ধর্মঘট হয়।একটা প্রানোচ্ছল ব্যস্ত শহর হঠাৎ করে থমকে দাঁড়ায়।

তাহলে বোঝা গেল যে পরিবহন ব্যবস্থা একটা শহরের প্রানোচ্ছলতা-কে বজায় রাখতে কতটা জরুরী। আবার পরিবহন ব্যবস্থার সুস্ঠ সঞ্চালন নির্ভর করে চালকদের উপর।আমরা আমাদের গন্তব্যে সঠিক সময়ে সুস্থভাবে পৌছাবো কিনা তা অনেকটাই নির্ভর করে আমাদের অটোচালক, ট্যাক্সিচালক, বাসচালক ভাইদের উপর। আর এই চালক ভাইয়েরা নির্ভর করেন তাঁদের ইউনিয়নের উপর।United we stand divided we fallএটাই তাঁদের মুলমন্ত্রইউনিয়নের দ্বারা ইউনাইটেড হ‌ওয়া ভাল কথা কিন্ত‍ু সেই ইউনিটি যদি যাত্রীদের (এই অতিব সাধারন আমি আর আপনি) বিরুদ্ধে হয়?

আমাদের চালক ভাইয়েরা যেমন আমাদের যাত্রা সহজ করার ক্ষমতা রাখেন তেমনি চাইলে আমাদের শেষ যাত্রার-ও ব্যাবস্থা করতে পারেন।কিছুদিন আগের ঘটনাই ধরুন, এক ট্যাক্সিচালক নির্দ্বিধায় ক্ষুর চালালো এক যাত্রীর উপর।অবশ্য যাত্রীর অপরাধ ছিল বেশ ভয়ঙ্কর।চালকের দাবী মত সে ২০০ টাকার বদলে ৫০০ টাকা ভাড়া দিতে চায়েনি।আহত যাত্রীটি কলকাতা ঘুরতে আসা এক অবাঙ্গালী যুবক।হাসপাতালে গুরুতর জখম নিয়ে শুয়ে শুয়ে সে কী ভাবছে হবে.... কলকাতায় আর কোনোদিন ফিরে আসবে কিনা।কেনই বা আসবে এ শহরে, যেখানে মাত্র ৫০০ টাকার জন্য তাঁর প্রানসংশয়!

৫০০ টাকার কথা তো নাহয় ছেড়েই দিলাম,কোনোদিন ভেবেছেন যদি ৬ টাকা বা ৭ টাকার জন্য আপনার উপর হামলা হয়?আসল সমস্যাটা ৬ বা ৭ টাকার নয়, সমস্যাটা খুচরোর।কম-বেশী সব কলকাতাবাসীরাই জানেন খুচরো ছাড়া এই শহরে অটো চড়া রীতিমত অবৈধ। আর যদি কখনো এই অবৈধ কাজ কেউ করেন, আমাদের চালক ভাইদের কাছে আছে তার মোক্ষম শাস্তি। কিল, চড়, লাথি, ঘুসি ইত্যাদি আপনার গায়ে উড়ে এসে লাগতেই পারে। বা হয়ত আপনার কানেই বসে গেল কামর। এবং এনারা জেন্ডার ডিসক্রিমিনাশানে ঘোর অবিশ্বাসী। তাই খুচরো না বহন করার অপরাধ যেই করুন, পুরুষ বা মহিলা, শাস্তি সকলকেই পেতে হয়।

চালকরা যাত্রীদের পাশে থাকুন বা না থাকুন, ইউনিয়ন কিন্ত‌ু সর্বদা চালকদের-ই পাশে। তা সে ট্যাক্সিচালকের ক্ষুর চালানোই হোক বা মাঝবয়সী মহিলাকে খুচরোর জন্য চড় লাগানো, সব ঘটনারই “যুক্তিপূর্ণ” ব্যাক্ষা আছে ইউনিয়নের কাছে। চালকেরা নাকী আত্মরক্ষার জন্য এরকম পদক্ষেপ নিয়েই থাকেন। হয়ত... কিন্ত‌ু আত্মরক্ষার ঘটনা একদিন বা দুদিন হতে পারে। যাত্রীদের উপর নির্বিচারে হামলা সে সংক্ষা ক্রমশই ছাড়িয়ে যাচ্ছে।

শুধু ভাড়া-ই সমস্যা নয়, অনেক সময় ট্যাক্সিচালকেরা যৌন-নিগ্রহের মত অপরাধেও জরিয়ে পরেন।“নো-রিফিউসাল” ট্যাক্সির উদ্ভাবনও খুব একটা সাহায্য করতে পারেনি যাত্রীদের।এমত অবস্থায় যাত্রী হিসাবে আমরা রাস্তায় বেড়িয়ে ঠিক কতটা সুরক্ষা আশা করতে পারি?আদৌ কী আমরা সুরক্ষিত?নাকী চালকদের মত যাত্রীদের-ও ক্ষুর ও ছুরি নিয়ে উঠতে হবে অটো, বাস বা ট্যাক্সি-তে।চরমপন্থী ভাবনার লোকজন বলতে পারেন যেমন কুকুর তাঁর তেমনি মুগুর।কিন্ত‍ু এই চরমপন্থা অবলম্বনে আমাদের শহরের সুরক্ষা ও প্রানোচ্ছলতা কী বজায় থাকবে?

No comments:

Post a Comment