April 14, 2015

ফুড হিউমার

“দেখ ভাই আমাকে নিয়ে যত মজা করবি কর... খাবার নিয়ে একদম ঠাট্টা না!”
খুব স্বাভাবিক, ফুড নিয়ে ফাজলামি কোন ভোজনরসিকই সহ্য করে না। করেনি আমার এই বন্ধুটিও যার বিরিয়ানির প্লেট থেকে আলু সরিয়ে নেওয়ায় সে বেজায় ক্ষেপে ওঠে।
আহা... কানা কে কানা, খোঁড়া কে খোঁড়া বলতে নেই। আর ভোজনরসিকের ভোজন নিয়ে রসিকতা করতে নেই। ছোটবেলায় শেখোনি?
কিন্ত‍ু ভোজন নিয়ে রসিকতাটা কেমনতর ভায়া? এই যেমন মিসিং আলু বিরিয়ানিতে বা মিয়ানো মুড়ি ঝালমুড়িতে।

অথবা ধর...

পাটিসাপটায় নুন
মিষ্টি দই-এ চুন
ফুচকায় পঁচা আলু
আলুকাবলিতে মেশানো বালু
এগরোলে পাঁচফোড়ন
চাউমিনেতে নো মাটন
ডিম ছাড়া এগটোস্ট
অর্ধপক্ক চিকেন রোস্ট
সন্দেশে কাঁকড়
মিয়ানো পাঁপড়
চাটনি ছাড়া পাপড়ি চাট
ঠান্ডা লুচি ফ্ল্যাট
ঘুঘনিতে নো ঝাল
রসগোল্লার রঙ লাল
বিনা পুরের সিঙ্গারা
পায়েসে জিরা...
আরও আছে। এ তো শুধু ট্রেলার...
বড়ই নিঠুর ও কঠোর এসব রসিকতা। কোনটাই সহ্য করা যায় না। নৈব নৈব চ!
                     

ধর শীতের দিনে, কলেজ কেটে, বিবেকানন্দ পার্কে গেলে। তোমার ক্রাশের হাতটি ধরে ফুচকা খাবে বলে। উফ্ লাভলী। চোখে প্রেম, হাতে শালপাতা আর তাতে ফুচকা...
অতুলনীয় সেই ওয়াটার বম্ব এবার তোমার মুখের পানে পাড়ি দিয়েছে... যাচ্ছে যাচ্ছে যাচ্ছে... হঠাৎ!
কচাৎ নয়, একটা নৈরাশ্যজনক প্যাচাৎ শব্দ হল আর তেতুলের জল তোমার টেস্টবাডগুলিকে অসভ্যের মত ডিচ্ করে বাইরে গিয়ে পড়ল।
“এহে হে... তুই কী ঠিক করে ফুচকা খেতেও জানিস না?”
মিয়ানো ফুচকা না তোমার ক্রাশের প্রেস্টিজ ক্রাশ করা মন্তব্য, কোনটায় কষ্ট বেশী? তার উপর আবার আলুর পুরে নুন কম! হাইট অফ ক্যালামিটি!


যারা কলিকাতার বাইরে থাকো বা থেকেছো তারা এমন বহু রসিকতাই সহ্য করেছো নিশ্চয়ফুচকার নামে মিস্টি পানিপুরি, ফুলকো লুচির নামে শক্ত পুরি, সন্দেশের সৎ ভাই, আলুকাবলির অশ্লীল ভার্সান ইত্যাদি ইত্যাদি... এতো দুধের সাধ মেটাতে আলুনি লেবুজলের সাপ্লাই! কোন তুলনা হয়?
ফুড হিউমার? নাহ্, এটা মোটেও হিউমার না। এতো সাক্ষাৎ টর্চার! বা বলা ভাল টেররিসম।
তবে ভোজনরসিকরাও কিন্ত‍ু ছেড়ে কথা কইবার পাত্র/পাত্রী নয়...
ভাঙ্গব তবু মচকাব না। প্রাণ দেব তবু বিরিয়ানির আলু ছাড়ব না। হ্যাটস্ অফ টু দিজ আনডাইং স্পিরিট অফ ভোজনরসিক।

No comments:

Post a Comment