April 26, 2015

Monsoon Mystery

ছবি সৌজন্য : গুগল বাবাজি
 All of a sudden I was feeling a lot of things. কেমন যেন ঝিমঝিম ভাব। চোখ দুটো জুড়ে আসছে। বন্ধ জানলার বাইরে টিপটিপ বৃষ্টি, হাল্কা আদুরে জলের ছাট আর আইপডে কিশোর কুমার।

“এক লড়কি ভিগি ভাগিসি...” গানটা চলেছে নিজের তালে। এমন সময়, মেয়েটি উঠল বাসে। ভিজে ছাতা, ভিজে চুল আর একরাশ বিরক্তি মুখে। গানটা হঠাৎ কেমন যেন ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক হয়ে উঠল। অনেকগুলো অনুভুতির মধ্যে রোম্যান্সটা যে একটা সেটা হঠাৎ টের পেলাম।

এহে! বাসের জানলা দিয়ে আবার জল আসছে! রোম্যান্সের চক্করে জিন্সটা ভিজল। কাদার কারুকার্য যেন কম ছিল তাতে! “ভিগি-ভাগি” মেয়েটির মুখের সেই বিরক্তি যেন আমার মুখেও ফুটে উঠল এবার! উফ্ এই ঘ্যানঘ্যানে বৃষ্টি।
         
এই বৃষ্টিতে বাড়ির বাইরে? জল, কাদা আর ট্রাফিক জ্যামে? প্রায় মিনিট ১৫ হয়ে গেল বাসটা রেড সিগনালের রক্তচক্ষু বড় কষ্টে সামলাচ্ছে। আচ্ছা কাদা আর ট্রাফিক জ্যাম ছাড়া বৃষ্টিটা ঠিক কেমন হত? আইপডে এবার কবীর সুমনের টার্ন।

উহু, কাদা না থাকলে চলবে কেন? ময়দানে ওই ছেলেগুলোর কাদা মেখে ফুটবল খেলা যে আর হবে না তাহলে। ফুটবল ছাড়া যে বাঙালির মোটেও চলবে না।

জিন্সটা ভিজল ঠিকই কিন্ত‍ু ভাগ্যিস বাসে উইন্ডো সীটটা পেয়েছিলাম। তাইতো বর্ষার এই রুপটা দেখতে পেলাম। যদিও এই রুপ আগেও দেখেছি বহুবার। তাও, আজও বলতে ইচ্ছা করে অয়ান্স্ মোর।

একটু ঝাপসা, একটু পরিষ্কার, আর অনেকটা স্বপ্নে মাখা। বৃষ্টি সত্যিই বড় রহস্যময়ী। টুউটারে হ্যাশট্যাগ #MonsoonMystery

ছবি সৌজন্য : গুগল বাবাজি

তেলেভাজা আর চা – হরিদার ঔ স্পেশাল পেঁয়াজিটা না খেলে তো এই বৃষ্টির সন্ধে একদম বৃথা। শুধু বাস থেকে নামার অপেক্ষা...
          
একঠোঙা পেঁয়াজি হাতে থাকলে বর্ষার রুপটাই কেমন হঠাৎ পাল্টে যায়। জোরে, আরও জোরে পা চলতে লাগে। তখন কোথায় কাদা আর কোথায় বৃষ্টির বাধা? পেঁয়াজির উষ্ণতায় বৃষ্টির শীতলতা মিশে যে অদ্ভুত শিহরণ জাগে তাতে হৃদস্পন্দন আর পায়ের গতি এমনিই বেড়ে যায়।

ওটা সুজি না? পাশের বাড়ির কুকুর আমাদের বারান্দায় কেন? আবার আমার সাধের পেঁয়াজির ঠোঙাটার দিকে লোলুপ দৃষ্টি দিচ্ছে! পেঁয়াজির লোভ সামলানো তাহলে কারোর পক্ষেই সম্ভব না। তাও আবার এই বৃষ্টির মরশুমে।

সুজি মন দিয়ে আমার দেওয়া পেঁয়াজিটা চাটতে লাগল। আজ আমার মত যে ওর ও হ্যাপী “বৃষ্টি” ডে।

No comments:

Post a Comment