April 27, 2015

নাইটমেয়ার

ঠিক যেন নাইটমেয়ার‌! একজন ভোজনরসিকের কাছে তো বটেই। এ যেন পাকিস্তানের ক্রিকেট টিমের কাছে ভারতের লজ্জাজনক হার। বা ইন্টারনেট ছাড়া বাকি জীবনটা কাটাবার শাস্তি। চরম দুঃস্বপ্ন!
                  
সবচেয়ে বড় শক‍্টা পেলাম তখন যখন দেখলাম সাধের ইলিশ মাত্র ২টাকা কেজি। সে কী আর যে সে ইলিশ, পদ্মার রুপোলী ইলিশ। উফ্... এত গ্ল্যামারাস তো কোন সুন্দরী নায়িকাকেও লাগেনি কখনো...

আর অমন অসাধারণ বিরিয়ানীটা... উহু, যেমন বড় রসাল মাটনের পিস্ তেমনি সুন্দর তাতে আলুর সুবাস। ডিমের উপস্থিতিতে সেই বিরিয়ানীর শাহী রুপ যেন আরো খোলতাই হচ্ছিল। কিন্ত‍ু কোন উপায় নেই... দুর থেকে শুধু দেখাই সার।

তারপর যখন ফুচকার দোকানের পাস দিয়ে যাচ্ছিলাম... সে তো আরেক টর্চার।

টাকায় ৫টা ফুচকা??? এসব বিলাসিতা তো আশির দশকে মিলত হে! ফুচকার আকারগুলো কিন্ত‍ু মোটেই নিরাশাজনক লাগল না। ইস্ যা ভিড়। ‘ওরে দুটো ফুচকা ফাউ দিচ্ছে রে!’ কাকে যেন একটা বলতে শুনলাম। ভাবা যায়? কোথায় ১০ টাকায় ৫টা ফুচকা আর ১ টাকায় ৫টা ফুচকা। আবার দুটো ফাউ! 

কিন্ত‍ু হায়...

বাইরের নিষ্ঠুর জগতের কথা না হয় ছেড়েই দিলাম, বাড়ি যখন ফিরলাম, ফ্রিজটা খুলেই ৪৪০ ভোল্টের ঝটকা খেতে হল। রসগোল্লার পায়েসটা এখনো বেঁচে আছে! ইস্ অমন নলেন গুড়ের মাধুরী মেশান, কাজু-কিশমিশ এর প্রেমে সাজানো পায়েসটা... পাশে ওটা পাটিসাপ্টা না!!! সর্বনাশ!

এরম পালিয়ে পালিয়ে আর কতদিন? ভাবেতে ভাবতেই ভাগ্যিস ঘুমটা ভাঙল আর দুঃস্বপ্নটাও। এ যাত্রায় বেঁচে গেলাম তাহলে। স্বপ্নের হতাশাটা ঘুম থেকে উঠেও বেশ টের পাচ্ছিলাম।

হতাশা দুর করার মাত্র একটাই উপায়। যেমন ভাবা তেমনি কাজ। একলাফে বিছানা ছেড়ে ফ্রিজের সামনে হাজির। ফ্রিজ খুলে পায়েস পেলাম না ঠিকই, কিন্ত‌ু দুটো কাঁচাগোল্লা পেলাম। চোখ বুজে একখানা মুখে পুরে যখন প্রাণভরে চিবোচ্ছি, তখন মনে হল, ভাগ্যিস আমি সত্যিই ডায়েটে নেই। নাহলে স্বপ্নটা বাস্তব হয়েই যেত! এখন ইলিশ যতই মহার্ঘ হোক কিন্ত‍ু সাধ্য সাধনা করে কিনে খাওয়া তো যাবে। বিরিয়ানীর শুধু ঘ্রান নিয়ে অর্ধভোজন করতে হবে না। আর ফুচকাটাও শুধু দুর থেকে দেখে দীর্ঘশ্বাস ফেলতে হবে না। আহ্ কি শান্তি!
ছবি সৌজন্য : গুগল বাবাজি




মোটা যদি কেউ বলে তো বলুক...  ডায়েটিং-এর দুঃস্বপ্ন নৈব নৈব চ!

No comments:

Post a Comment