April 14, 2015

হাঁস-ফাঁস



18:24 যাহ্, ৬টা ২৫এর মেট্রো টা আজ আর হল না...

18:35 - ৩০ এর মেট্রো টা পেলাম। কিন্ত‍ু এখন ভাবছি কেন পেলাম...

“এই যে ম্যাডাম, আপনার হিলটা আমার পায়ের উপর যে।” চরণ হিলবিদ্ধ হল আমার আর চোখে আগুন জ্বলে উঠল ঐ (অ)ভদ্রমহিলার। “Can’t you see how crowded it is. Where’ll I put my foot? ভিড়ের মধ্যে হিলের ভাড় তাহলে এবার আমার পদযুগলকেই নিতে হবে? বেশ...

যাক বাবা! অবশেষে কালীঘাটে “জয় মা” বলে অবতরন। মেট্রো থেকে নামতে নামতে ভিড়ের চোটে ২ খানা ফুল আর একটা হাফ চক্কর কেটে ফেল্লাম।

“ভ্যাঁ...” পাশ থেকে আশা বিকট চিৎকারটির উৎস এক শার্প শিশু কন্ঠ। “চুপ! উফ্...এই অফিস টাইমের ভিড়ে বেরোনই দায়!” ভিড় ঠেলায় এরাও আমার সঙ্গী। জোড় লাগাকে...

***

“কম করে জনা ৫০ তো হবেই রে!” পিঠ-পিছে কমেন্ট। মানে এই আদি অনন্ত অটোর লাইনে আমি প্রবাবলি ৪৯ তম? আহাহা... ৯৯৯ টাকা আর ১০০০ টাকার তফাৎটাও হয়ত এই কারনেই মধুর লাগে।
আচ্ছা, যদি প্রতি ১০ মিনিটে একটা অটো এসে ৪ জনকে রেসকিউ করে আর এখন যদি রাত ৮টা ২৫ বাজে তবে গাণিতিক নিয়মে মেরা নম্বর কব আয়েগা?

***

বাসে উইন্ডো সীট! একটা লটারীর টিকিট তাহলে কেটেই নেব, আজ নির্ঘাৎ লাগবে।
“দিদি একটু ব্যাগটা...” উঁহু... অরিজিত সিং-এর কন্ঠে মহিলার সুর মিশল কোথা থেকে?

চোখ খুলতেই সামনে দাঁড়ানো মহিলা তাঁর হুমদো ল্যাপটপের ব্যাগটা আমার কোলে ছুঁড়ে দিল! উইন্ডো সীট রোমান্সে পড়ল প্রথম বাধা।

ল্যাপটপের ব্যাগের উপর আরো একটা পার্স ও টিফিন বক্সের ব্যাগ জমা পড়েছে। ব্যাগরাশির ওপার থেকে মিটিমিটি উঁকি মারছি আর ভাবছি, বাসে থেকে গেলে কেমন হয়? নামতে পারার আশা ক্ষীণ।
শেষমেষ ঠিক করলাম আর চুপ করে থাকবোনা। এবার হুঙ্কার দিতেই হবে। দীর্ঘ ৮ মিনিটের চুড়ান্ত স্ট্রাগলের পর সীট ছেড়ে উঠলাম। গলায় সব জোড়টুকু গুছিয়ে নিয়েই... “আমি নামবো... আমাকে নামতে দিন!!!”

কমপক্ষে আরো জনা ২০-২৫ লোক একইভাবে চিৎকার করছিল, প্লাস আনুষঙ্গিক হট্টগোল। কনডাক্টর শেষে আমাদেরকে বাঁচালেন, ভিড় থেকে টেনে হিচড়ে বার করে রাস্তার উদ্দেশ্যে ছুঁড়ে দিয়ে।

বাকীটা শুধুই হাঁপানী রোগীর পারফেক্ট অ্যাক্টি়ং ও হাঁস-ফাস।

No comments:

Post a Comment