April 27, 2015

দিনকাল বড় খারাপ

“কটা বাজে?? বলেছি না মেয়েমানুষ এত রাত অব্দি বাড়ির বাইরে থাকবিনা!

কিন্ত‍ু কেন মা?

কেন আবার কী? দিনকাল যা পড়েছে....”

স্ক্রীপ্ট মনে হচ্ছে? হ্যাঁ, স্ক্রীপ্ট-ই বটে... তবে সিনেমার নয়, বাস্তবের। উপরের এই লাইনগুলি বাস্তব দুনিয়ার কম-বেশী সব মেয়ে ও তাঁদের বাবা মা-রাই চিনতে পারবেন।

কোন দিনকালের কথা হচ্ছে এখানে? কেনই বা মেয়েদের রাত করে বাড়ি ফিরতে নেই? আরে বুঝলেন না মশাই?? “অকেলি লড়কি খুলি তিজোরী জ্যায়সি হোতি হ্যায়”।
ছবি সৌজন্য : গুগল বাবাজি
এই লাইনটাও আশা করি চেনা গ্যাছে। সেই “জব উই মেট”, সেই রতলাম স্টেশন। আর স্টেশনে একা করীনা যাকে অত রাতে একা একা ঘুরে বেড়াতে দেখে যৌন কর্মী ভাবা হয়েছিল। আরে বাবা “দিনকাল”-যে ভাল না...

যাই বলুন, সিনেমায় দোষ কিন্ত‍ু করীনার-ই ছিল। ও কি করে ভুলে গেল ও একটি মেয়ে। সাহসটা হয় কী করে একা একা যখন তখন যেখানে খুশী ঘুরে বেরাবার! ওই গল্পে শাহিদ কাপুর-ও তো ছিল। ওকে কোন মহিলা কী যৌন কর্মী ভেবে তাড়া করেছিল? অথচ জিগোলোদের অস্তিত্ত্ব-ও কিন্ত‍ু আমাদের সুন্দর সমাজে আছে।

তাহলে প্রমানিত হল দোষ করীনার-ই। অপরাধ – নারী শরীর ধারণ করা।

এতো গেল সিনেমার গপ্পো। এবার আসা যাক বাস্তব দৃশ্যে মেয়ে হওয়ার অপরাধ গম্ভীর বটে, এবং এতটাই যে একটি ছোট্ট শিশুর-ও রেহাই নেই এর থেকে। যৌন নিগ্রহের শিকার হতে পারে একটি শিশুও। দোষটা কী সেটা বুঝে ওঠার আগেই হয়ত পেয়ে গেল শাস্তি শিশুটি নাতো তাঁর দোষটাই বুঝলো না বুঝল কী শাস্তি সে পেল। রেহাই কিন্ত‌ু নেই কোন সত্তরোর্ধ বৃদ্ধারও।

আবার ধরুন, সরকার নিয়ম করে হাসপাতালে আলট্রাসোনোগ্রাফি তো বন্ধ করেছে কিন্ত‍ু কন্যাসন্তান জন্মানোর পর তো আর তার জারিজুরি চলবেনা। বাবা চাইলেই গলা টিপে তাঁর কন্যাসন্তানকে মেরে ফেলতে পারেন। আরে বাবা, মেয়ে মানে যে মানুষ তা কি সবাইকে মানতেই হবে? তাই মেয়েখুন আর মানুষখুন ও সবক্ষেত্রে এক না। মানুষখুন অপরাধের, মেয়েখুন নয়। ঠিক বলেছেন, এটি যৌন নিগ্রহ নয়, তবে যৌন কারনে নিগ্রহ তো বটেই

চারিদিকে এত প্রতিবাদ, চিৎকার, নিয়মের জাল.... কী লাভ? ধর্ষণ কমেছে না যৌন নিগ্রহ? অগত্যা... ঘরে সিঁধিয়ে থাকাটাই একমাত্র উপায়তাইতো... বেশী রাত অব্দি বাড়ির বাইরে ঘুরতে নেই মেয়েদের। এবার বুঝেছেন তো দিনকাল কত খারাপ...

No comments:

Post a Comment