May 11, 2015

মোলেস্টেশান

ছবি সৌজন্য : গুগল
“দাদা একটু সরে দাঁড়ান।”

শব্দগুলো ঠিকমত বোধগম্য হওয়ার আগেই একজন মোটাসোটা মহিলা কোথা থেকে যেন হুড়মুড়িয়ে এসে রোগাসোগা ছেলেটিকে সরিয়ে তার জায়গায় দাঁড়িয়ে পড়ল।
ভারী ব্যাগটা না ফোন? কোনটা কী ভাবে ব্যলান্স করবে ছেলেটি ঠিক বুঝতে পারছিল না। ভিড়ের চোটে ধাক্কা খেয়ে ছেলেটি আরও খানিকটা পিছিয়ে গেল। পিছিয়ে যেতেই আরও এক বিপদ...

“এটা কী হচ্ছে দাদা?” জনৈক নারীকন্ঠের তীব্র গর্জন ভেসে এল ছেলেটির উদ্দেশ্যে।
“সরে দাঁড়ান বলছি!” আবার সেই নারীকন্ঠের ঝাঁঝালো সুর।

বাসে বেশ ভিড়। কোথাও সরার, ঘোরার বা যাওয়ার বিন্দুমাত্র জায়গা নেই। কিন্ত‌ু এখানে যে দাঁড়ানো যাবে না। পাছে মোলেস্টেশানের চার্জ লেগে যায়। ছেলেটি যে আদৌ মোলেস্টার নয়।
           
***
ছবি সৌজন্য : গুগল

একটু একটু ঢুলুনি আসছে... শরীরটা মোটে ভাল নেই যে। হঠাৎ মনে হল সামনে একটা ছায়ামূর্তি এসে দাঁড়ালো।
“দাদা লেডিস সীট।”
পা দুটো কাঁপছে অল্প অল্প, কিন্ত‍ু সীট তো ছাড়তেই হবে...
          
***

এই নিয়ে... না জানি কতবার রুমির মেসেজটা পড়ল সুমিত। এখনও বিশ্বাস হচ্ছে না। এ কী? সুমিতের চোখে জল!!! ছেলেরা আবার কাঁদে নাকি! ব্রেক-আপ তো কত হয়! তা বলে সবাই কী কান্নাকাটি করে?
সুমিত যে বেকার তাতে রুমির কি দোষ? শুধু শুধু ভালবাসার খাতিরে রুমি অমন এক “ওয়েল সেটল্ড্” পাত্রকে হাতছাড়া করবে? অসম্ভব!

সুমিত আর কান্না থামিয়ে রাখতে পারছে না। মোলেস্টেড? হয়ত মেন্টালি...

***

রোজই মালা ট্রেনে ওঠে। পয়সা চায়। কেউ পয়সা দেয়, কেউ দেয় না। কিন্ত‌ু যেটা সবাই দেয় তা হল অদ্ভুত দৃষ্টি।  ওর অদ্ভুত পোশাক, চুলের বেণী, বেমানান গলার স্বর কারোরই যে নজর এড়ায় না। দেখে কেউ মিচকে হাসে। কোথাও থেকে ভেসে আসে ফিসফাস। মালার কানে সবই যায়। কিন্ত‍ু এসবে আর পাত্তা দেবে না বলেই ঠিক করেছে সে।

মাধব থেকে মালা হয়েছে বলেই কী বিটকেল রসিকতার স্বীকার হতে হয়? হয়ত তাই। কিন্ত‍ু মালার তাতে দুঃখ নাই। মানসিক এই মোলস্টেশান মালা আর সইবে না। মন থেকে ঠিক করেই নিয়েছে। এখন আর যে যাই বলুক, যতই ব্যঙ্গ করুক, মালা শুধুই হাসবে।

No comments:

Post a Comment