May 3, 2015

ফ্যাশানের ফ্যাশাদে...

চকচকে একটা টাক এগিয়ে আসছে। সে এমন সুপার সাইন যাকে অগ্রাহ্য করার ক্ষমতা কোন তপস্বী ঋষি মুনিরও নাই। তা ভাল, বয়স যাই হোক ব্রাইট কালার্ড শার্ট আর ওয়েল মেনটেইন্ড টাক তো কেউ চাইলে শো অফ করতেই পারে। কিন্ত‍ু চমকটা তো সেখানে নয়...

সেই সুপার সাইনি টাকমাথা ভদ্রলোকটি যখন আমার পাশে এসে মেট্রোর দরজার দিকে মুখ করে ঘুরে দাঁড়ালেন... চমকটা পেলাম তখন। চকচকে সেই টাকের পিছনে কিছু কেশরাশিও অর্ধচন্দ্রাকারে উপস্থিত, যাতে কিনা সজত্নে বারগ্যান্ডি কালার করা।

তারপর মেট্রোর দরজা খুললো ও সেই “স্টাইলিশ” ভদ্রলোক গিরিশ পার্কে নেমে গটগট করে চলে গেলেন। কিন্ত‍ু নিজের টাক ও রঞ্জিত কুন্তলের উজ্জ্বল প্রতিচ্ছবি আমার মগজে ছেড়ে গেলেন। এরেই বোধ হয় কয় মার-কাটারি ফ্যাশান।

ফ্যাশান কিন্ত‌ু আরও আছে... এই যেমন কোন এক শ্যামবর্ণা সুন্দরীর গাঢ় নীল রঙা ওড়না আর চুলের বেণীতে হলুদ গোলাপ। অথবা রিপড্ জিন্সের সাথে খাদির কুর্তি আর কপালে একটা টিপ।
ছবি সৌজন্য : গুগল বাবাজি

নেহেরু জ্যাকেটের ছোঁয়া কিন্ত‍ু মোদির শহর থেকে মমতার শহরেও লেগে গ্যাছে।
        
ছবি সৌজন্য : গুগল বাবাজি
আর কেউ যদি অতীব উৎসাহে ট্যাটু করায়, with some Sanskrit phrase? দেখার মত হবে বটে।
                                            
কলিকাতার এত রঙ্গ, ফ্যাশানের ফ্যাশাদে ফেসেছে বঙ্গ!

হোক সে পার্টি মুড, কলেজ পাড়া বা আপিসের তাড়া, আজকাল এতরকম ফ্যাশানেবল চমক চোখে পড়ে যে মাঝে মাঝে মনে হয় কলকাতার এ হল কী। কখনও ইম্প্রেসিভ, কখনও বা ডিপ্রেসিভ(এই যেমন সেই টাকধারী কাকু/জেঠু)। এ কেমনতর মায়া?

বাঙালি ধুতি আর আটপৌড়ে শাড়ি ছেড়েছে বহুদিন হল, কিন্ত‍ু এমন জাগরণ যে দেখতে পাব ভাবতেই পারিনি। আসলে পরিবর্তনের সময়টা এতটাই বেশি লাগিয়ে ফেললো যে...

যাক গে, সেসব গিলা-সিকওয়া না হয় থাক, আপাতত কলকাতার এই নতুন ফ্যাশানে মজা যাক।

পরিবর্তনটা তো ফাইনালি হল, নাহয় পোশাকেই সই। তবে এ ভেবো না যে বাঙালির পোশাক থেকে বাবু কালচার বিদায় নিয়েছে। এখনো কিন্ত‌ু আমাদের লুপ্তপ্রায় টিপিকাল বাবুরা ও বিবিরা Priory of Sion-এর মত কোন সিক্রেট সোসাইটি রুপে বিদ্যমান। যদিও তারা সিক্রেট সোসাইটি রুপে চলাফেরা করেন না। একটু চোখ কান খোলা রাখলে উজ্জ্বল দিবালোকেই তাঁদের দেখা যাবে। পুরনো আর নতুন মিলিয়ে এইভাবেই হয়ত চলছে আর চলবে আমাদের ফ্যাশান।

No comments:

Post a Comment