August 28, 2015

পায়েস পুরাণ

আহা... কনকনে শীতের সকাল
কুয়াশার মায়াজাল
আর...
গরম গরম নলেন গুড়ের পায়েস...
কিন্ত এ কি!!!

“আরে রসটা তো গায়ে পড়ছে!” সুনয়নার সু-নয়ন দুখানি রাগে জ্বলে উঠলো হঠাৎ।
কি মুশকিল! সাতসকালবেলা এসব কেউ আনে!” আরও একটু জোর পেলো সুনয়নার সুমধুর গলা।

“রেগে যাস ক্যানো? জল দিয়ে ধুয়েনে আর পায়েসটা খেয়ে দেখ।”
“নাহ্! অনেক হয়েছে... আর লাগবেনা!”- রীণা দেবীর অনুরোধ প্রত্যাক্ষান করেই সুনয়নার দ্রুত প্রস্থান, পরের স্টেশনে নামবে যে।

“মেয়েটার তো বড্ড রাগ! নাহয় একটু রস-ই পরেছে গায়ে তা বলে মায়ের বয়সী একজনকে এভাবে মুখ করবে? আরে আমরা রোজ এক ট্রেনে যাই আসি! আজকালকার জেনারেশানটাই এমন।”

পাশের সিটের সবিতা দেবী নিজের ক্ষোভ প্রকাশে ব্যস্ত। আর রীণা দেবী? চোখের জল আর পায়েসের বাটি সামলাতে। দুটোরই প্রায় ছলছল অবস্থা যে...

“আমার মেয়েটা বেঁচে থাকলে... জন্মদিনের পায়েসটা ওকেই খাওয়াতাম” বাইরে শীতের ঝলমলে রোদ তবু রীণা দেবীর মনে তখন শ্রাবণের আঁধার...

লাঞ্চবক্স ভর্তি পায়েস আবার সযত্নে প্যাক করতে করতে রীণা দেবীর চোখে পড়ল একজোড়া দ্রুত এগিয়ে আসা ফ্যান্সি স্যান্ডল।

“আরে... নামবিনা? স্টেশন ঢুকে যাবে তো!” নিদারূণ বেগে হঠাৎ ফিরে আসা সুনয়নাকে প্রশ্ন করলেন রীণা দেবী।

“ওটা পায়েস না? আগে বলবেতো! এমনভাবে প্যাক করেছো য্যানো সাজিয়ে রাখবে!”–বলেই সুনয়না চুপ। কথা বলতে বলতে কোনো উপাদেয় জিনিস খেতে নেই জানো না? তাই এখন স্পিকটি নট!

“আর একটু খা...” ট্রেনের জানলা দিয়ে উঁকি মেরে উদ্বিগ্ন রীণা দেবী বললেন “এখনো স্টেশন ঢোকেনি।”
কিন্ত সুখ যে দীর্ঘস্থায়ী হয় না। তাই স্টেশনটাও হুড়মুড়িয়ে চলেই এল।

“আর না! উফ্ আমার ডায়েট গেলো... এবার স্টেশন-ও যাবে... এলাম কাকিমা... Awesome!”–বলতে বলতেই গেটের দিকে দৌড় লাগালো সুনয়না।

স্টেশনে নেমে জানলার কাছে এসে আরও একবার হাত নেড়ে গেলো মেয়েটা। রীণা দেবীর চোখে আবার জল... তবে এবার কারণটা অন্য। পায়েসভর্তি লাঞ্চবক্সের সাথে তাঁর মনের ভার ও যে কমে গেল খানিকটা।
ছবি সৌজন্য : গুগল বাবাজি

No comments:

Post a Comment