April 27, 2015

নাইটমেয়ার

ঠিক যেন নাইটমেয়ার‌! একজন ভোজনরসিকের কাছে তো বটেই। এ যেন পাকিস্তানের ক্রিকেট টিমের কাছে ভারতের লজ্জাজনক হার। বা ইন্টারনেট ছাড়া বাকি জীবনটা কাটাবার শাস্তি। চরম দুঃস্বপ্ন!
                  
সবচেয়ে বড় শক‍্টা পেলাম তখন যখন দেখলাম সাধের ইলিশ মাত্র ২টাকা কেজি। সে কী আর যে সে ইলিশ, পদ্মার রুপোলী ইলিশ। উফ্... এত গ্ল্যামারাস তো কোন সুন্দরী নায়িকাকেও লাগেনি কখনো...

আর অমন অসাধারণ বিরিয়ানীটা... উহু, যেমন বড় রসাল মাটনের পিস্ তেমনি সুন্দর তাতে আলুর সুবাস। ডিমের উপস্থিতিতে সেই বিরিয়ানীর শাহী রুপ যেন আরো খোলতাই হচ্ছিল। কিন্ত‍ু কোন উপায় নেই... দুর থেকে শুধু দেখাই সার।

তারপর যখন ফুচকার দোকানের পাস দিয়ে যাচ্ছিলাম... সে তো আরেক টর্চার।

টাকায় ৫টা ফুচকা??? এসব বিলাসিতা তো আশির দশকে মিলত হে! ফুচকার আকারগুলো কিন্ত‍ু মোটেই নিরাশাজনক লাগল না। ইস্ যা ভিড়। ‘ওরে দুটো ফুচকা ফাউ দিচ্ছে রে!’ কাকে যেন একটা বলতে শুনলাম। ভাবা যায়? কোথায় ১০ টাকায় ৫টা ফুচকা আর ১ টাকায় ৫টা ফুচকা। আবার দুটো ফাউ! 

কিন্ত‍ু হায়...

বাইরের নিষ্ঠুর জগতের কথা না হয় ছেড়েই দিলাম, বাড়ি যখন ফিরলাম, ফ্রিজটা খুলেই ৪৪০ ভোল্টের ঝটকা খেতে হল। রসগোল্লার পায়েসটা এখনো বেঁচে আছে! ইস্ অমন নলেন গুড়ের মাধুরী মেশান, কাজু-কিশমিশ এর প্রেমে সাজানো পায়েসটা... পাশে ওটা পাটিসাপ্টা না!!! সর্বনাশ!

এরম পালিয়ে পালিয়ে আর কতদিন? ভাবেতে ভাবতেই ভাগ্যিস ঘুমটা ভাঙল আর দুঃস্বপ্নটাও। এ যাত্রায় বেঁচে গেলাম তাহলে। স্বপ্নের হতাশাটা ঘুম থেকে উঠেও বেশ টের পাচ্ছিলাম।

হতাশা দুর করার মাত্র একটাই উপায়। যেমন ভাবা তেমনি কাজ। একলাফে বিছানা ছেড়ে ফ্রিজের সামনে হাজির। ফ্রিজ খুলে পায়েস পেলাম না ঠিকই, কিন্ত‌ু দুটো কাঁচাগোল্লা পেলাম। চোখ বুজে একখানা মুখে পুরে যখন প্রাণভরে চিবোচ্ছি, তখন মনে হল, ভাগ্যিস আমি সত্যিই ডায়েটে নেই। নাহলে স্বপ্নটা বাস্তব হয়েই যেত! এখন ইলিশ যতই মহার্ঘ হোক কিন্ত‍ু সাধ্য সাধনা করে কিনে খাওয়া তো যাবে। বিরিয়ানীর শুধু ঘ্রান নিয়ে অর্ধভোজন করতে হবে না। আর ফুচকাটাও শুধু দুর থেকে দেখে দীর্ঘশ্বাস ফেলতে হবে না। আহ্ কি শান্তি!
ছবি সৌজন্য : গুগল বাবাজি




মোটা যদি কেউ বলে তো বলুক...  ডায়েটিং-এর দুঃস্বপ্ন নৈব নৈব চ!

বঙ্গনারী তার পড়নে শাড়ি

একতা কাপুরের সিরিয়াল দেখার দুর্ভাগ্য হয়েছে আপনার? That very (in)famous “Kasauti Zindagi Ki”?

আমার হয়েছে। তখন আমি অনেক ছোট। বিয়ে-শাদী নিয়ে ইন্টরেস্টটা শুধুই ভাল-মন্দ ব্যঞ্জন ভক্ষণ অব্দি। কিন্ত‍ু ছোট পর্দায়, ওই "কে সিরিয়াল"-এ তো কচি পাঁঠার হাড় চর্বনের কোন দৃশ্য থাকত না। তাও অবাক নয়নে দেখতাম সিরিয়ালগুলি। আসলে যেটা ইন্টরেস্টিং লাগত সেটা ছিল জনৈক অনুরাগ বাসুর বাড়ির মহিলাদের বেশভূষা। বাঙালি প্রমান করার জন্য তাঁদেরকে জোর করে পড়ানো সেই আটপৌড়ে শাড়ি। তখন শুধু একটাই কথা মনে হত... “মা তো এইভাবে শাড়ি পড়ে না।”

সময় এগিয়েছে, মানুষ নোকিয়া ৩৩১০ ছেড়ে লুমিয়া ধরেছে। তার সাথেই বদলেছে বঙ্গনারী ও তাঁর শাড়ি। আটপৌড়ে তো দুর এখন আমরা শাড়িই তেমন পড়ি না। তাঁত, ঢাকাই, জামদানী এবং তাঁদের চাহিদা এখনও আছে ঠিকই, কিন্ত‍ু রোজ শাড়ি পড়া এখন অনেকেরই কাছে আতঙ্ক! অষ্টমীর অঞ্জলি বা সরস্বতীর আরাধনা যেমন শাড়ি ছাড়া ভাবতে পারি না, বছরের বাকী দিনগুলো তেমনি শাড়ি পড়ে ভাবতে পারিনা। Seriously! Managing 6 boyfriends at a time is actually easier than managing those 6 yards!

লাল পেড়ে সাদা শাড়ি, বড় লাল টিপ, একঢাল কেশরাশি এবং আলতা আর বঙ্গনারীকে ডিফাইন করে না। কিন্ত‌ু যে কোন বলিউডি সিনেমা বা হিন্দি সিরিয়ালে বাঙ্গালি মানেই আটপৌঢ়ে শাড়ি। দেবদাস”-এ মাধুরী আর ঐশর্য্য যা পড়েছে তা গল্পে বর্ণিত সমাজ ও সময়ের সাথে মিল খায় বটে। কিন্ত‍ু Kasauti Zindagi Ki-র প্রেরণা বা Bullet Raja”-র সোনাক্ষী যে ধরনের শাড়ি পড়েছে তা যুগের সাথে মোটেই মিল খায় না। I actually feel like protesting whenever I see some movie or serial expecting Bengali women to wear those heavy saris traditionally everyday!

কিন্ত‍ু এটাও ঠিক যে, there is something about a Bengali woman in sari. আটপৌঢ়ে বা সাধারণ, যে যেভাবেই পড়া হোক সে সৌন্দর্য্য চোখে পড়তে বাধ্য। Ask any guy if you don’t believe me. হয়তো এই কারনেই সরস্বতি পুজো বা অষ্টমীর দিনটাই বেশীরভাগ ছেলে বেছে নেয় প্রেম নিবেদনের জন্য।
ছবি সৌজন্য : গুগল বাবাজি

আধুনিকতা যতই আমাদের পোশাকে ছাপ ফেলুক না কেন, বিয়েতে কিন্ত‌ু লাল বেনারসী মাস্ট্ জিন্স কনভিনিয়েন্ট বটে কিন্ত‍ু লাল টুকটুকে তাঁত ছাড়া নতুন বউকে জাস্ট মানায় না। তাই সময় যতই এগোক বা আসুক নতুন ফ্যাশান, there’s nothing in this world that can replace the beauty of Bengali woman in sari! Agree?

দিনকাল বড় খারাপ

“কটা বাজে?? বলেছি না মেয়েমানুষ এত রাত অব্দি বাড়ির বাইরে থাকবিনা!

কিন্ত‍ু কেন মা?

কেন আবার কী? দিনকাল যা পড়েছে....”

স্ক্রীপ্ট মনে হচ্ছে? হ্যাঁ, স্ক্রীপ্ট-ই বটে... তবে সিনেমার নয়, বাস্তবের। উপরের এই লাইনগুলি বাস্তব দুনিয়ার কম-বেশী সব মেয়ে ও তাঁদের বাবা মা-রাই চিনতে পারবেন।

কোন দিনকালের কথা হচ্ছে এখানে? কেনই বা মেয়েদের রাত করে বাড়ি ফিরতে নেই? আরে বুঝলেন না মশাই?? “অকেলি লড়কি খুলি তিজোরী জ্যায়সি হোতি হ্যায়”।
ছবি সৌজন্য : গুগল বাবাজি
এই লাইনটাও আশা করি চেনা গ্যাছে। সেই “জব উই মেট”, সেই রতলাম স্টেশন। আর স্টেশনে একা করীনা যাকে অত রাতে একা একা ঘুরে বেড়াতে দেখে যৌন কর্মী ভাবা হয়েছিল। আরে বাবা “দিনকাল”-যে ভাল না...

যাই বলুন, সিনেমায় দোষ কিন্ত‍ু করীনার-ই ছিল। ও কি করে ভুলে গেল ও একটি মেয়ে। সাহসটা হয় কী করে একা একা যখন তখন যেখানে খুশী ঘুরে বেরাবার! ওই গল্পে শাহিদ কাপুর-ও তো ছিল। ওকে কোন মহিলা কী যৌন কর্মী ভেবে তাড়া করেছিল? অথচ জিগোলোদের অস্তিত্ত্ব-ও কিন্ত‍ু আমাদের সুন্দর সমাজে আছে।

তাহলে প্রমানিত হল দোষ করীনার-ই। অপরাধ – নারী শরীর ধারণ করা।

এতো গেল সিনেমার গপ্পো। এবার আসা যাক বাস্তব দৃশ্যে মেয়ে হওয়ার অপরাধ গম্ভীর বটে, এবং এতটাই যে একটি ছোট্ট শিশুর-ও রেহাই নেই এর থেকে। যৌন নিগ্রহের শিকার হতে পারে একটি শিশুও। দোষটা কী সেটা বুঝে ওঠার আগেই হয়ত পেয়ে গেল শাস্তি শিশুটি নাতো তাঁর দোষটাই বুঝলো না বুঝল কী শাস্তি সে পেল। রেহাই কিন্ত‌ু নেই কোন সত্তরোর্ধ বৃদ্ধারও।

আবার ধরুন, সরকার নিয়ম করে হাসপাতালে আলট্রাসোনোগ্রাফি তো বন্ধ করেছে কিন্ত‍ু কন্যাসন্তান জন্মানোর পর তো আর তার জারিজুরি চলবেনা। বাবা চাইলেই গলা টিপে তাঁর কন্যাসন্তানকে মেরে ফেলতে পারেন। আরে বাবা, মেয়ে মানে যে মানুষ তা কি সবাইকে মানতেই হবে? তাই মেয়েখুন আর মানুষখুন ও সবক্ষেত্রে এক না। মানুষখুন অপরাধের, মেয়েখুন নয়। ঠিক বলেছেন, এটি যৌন নিগ্রহ নয়, তবে যৌন কারনে নিগ্রহ তো বটেই

চারিদিকে এত প্রতিবাদ, চিৎকার, নিয়মের জাল.... কী লাভ? ধর্ষণ কমেছে না যৌন নিগ্রহ? অগত্যা... ঘরে সিঁধিয়ে থাকাটাই একমাত্র উপায়তাইতো... বেশী রাত অব্দি বাড়ির বাইরে ঘুরতে নেই মেয়েদের। এবার বুঝেছেন তো দিনকাল কত খারাপ...

April 26, 2015

Monsoon Mystery

ছবি সৌজন্য : গুগল বাবাজি
 All of a sudden I was feeling a lot of things. কেমন যেন ঝিমঝিম ভাব। চোখ দুটো জুড়ে আসছে। বন্ধ জানলার বাইরে টিপটিপ বৃষ্টি, হাল্কা আদুরে জলের ছাট আর আইপডে কিশোর কুমার।

“এক লড়কি ভিগি ভাগিসি...” গানটা চলেছে নিজের তালে। এমন সময়, মেয়েটি উঠল বাসে। ভিজে ছাতা, ভিজে চুল আর একরাশ বিরক্তি মুখে। গানটা হঠাৎ কেমন যেন ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক হয়ে উঠল। অনেকগুলো অনুভুতির মধ্যে রোম্যান্সটা যে একটা সেটা হঠাৎ টের পেলাম।

এহে! বাসের জানলা দিয়ে আবার জল আসছে! রোম্যান্সের চক্করে জিন্সটা ভিজল। কাদার কারুকার্য যেন কম ছিল তাতে! “ভিগি-ভাগি” মেয়েটির মুখের সেই বিরক্তি যেন আমার মুখেও ফুটে উঠল এবার! উফ্ এই ঘ্যানঘ্যানে বৃষ্টি।
         
এই বৃষ্টিতে বাড়ির বাইরে? জল, কাদা আর ট্রাফিক জ্যামে? প্রায় মিনিট ১৫ হয়ে গেল বাসটা রেড সিগনালের রক্তচক্ষু বড় কষ্টে সামলাচ্ছে। আচ্ছা কাদা আর ট্রাফিক জ্যাম ছাড়া বৃষ্টিটা ঠিক কেমন হত? আইপডে এবার কবীর সুমনের টার্ন।

উহু, কাদা না থাকলে চলবে কেন? ময়দানে ওই ছেলেগুলোর কাদা মেখে ফুটবল খেলা যে আর হবে না তাহলে। ফুটবল ছাড়া যে বাঙালির মোটেও চলবে না।

জিন্সটা ভিজল ঠিকই কিন্ত‍ু ভাগ্যিস বাসে উইন্ডো সীটটা পেয়েছিলাম। তাইতো বর্ষার এই রুপটা দেখতে পেলাম। যদিও এই রুপ আগেও দেখেছি বহুবার। তাও, আজও বলতে ইচ্ছা করে অয়ান্স্ মোর।

একটু ঝাপসা, একটু পরিষ্কার, আর অনেকটা স্বপ্নে মাখা। বৃষ্টি সত্যিই বড় রহস্যময়ী। টুউটারে হ্যাশট্যাগ #MonsoonMystery

ছবি সৌজন্য : গুগল বাবাজি

তেলেভাজা আর চা – হরিদার ঔ স্পেশাল পেঁয়াজিটা না খেলে তো এই বৃষ্টির সন্ধে একদম বৃথা। শুধু বাস থেকে নামার অপেক্ষা...
          
একঠোঙা পেঁয়াজি হাতে থাকলে বর্ষার রুপটাই কেমন হঠাৎ পাল্টে যায়। জোরে, আরও জোরে পা চলতে লাগে। তখন কোথায় কাদা আর কোথায় বৃষ্টির বাধা? পেঁয়াজির উষ্ণতায় বৃষ্টির শীতলতা মিশে যে অদ্ভুত শিহরণ জাগে তাতে হৃদস্পন্দন আর পায়ের গতি এমনিই বেড়ে যায়।

ওটা সুজি না? পাশের বাড়ির কুকুর আমাদের বারান্দায় কেন? আবার আমার সাধের পেঁয়াজির ঠোঙাটার দিকে লোলুপ দৃষ্টি দিচ্ছে! পেঁয়াজির লোভ সামলানো তাহলে কারোর পক্ষেই সম্ভব না। তাও আবার এই বৃষ্টির মরশুমে।

সুজি মন দিয়ে আমার দেওয়া পেঁয়াজিটা চাটতে লাগল। আজ আমার মত যে ওর ও হ্যাপী “বৃষ্টি” ডে।

রোব্বারের Wrong-বাজী

জন্মদিন, অ্যানিভার্সারী, সরস্বতী পুজো, পয়লা বৈশাখ ইত্যাদি বছরে একবারই আসে। তাই এইদিনগুলি গুরুত্ব পাবে সেটাই স্বাভাবিক। কিন্ত‍ু রবিবার, সে তো প্রত্যেক সপ্তাহে একবার করে এসে টুকি দিয়ে যায়। বছরের ৩৬৫ দিনের মধ্যে ৫২-টাই রবিবার। আর লিপ-ইয়ার হলে তো আরো একটা গোটা রবিবার ফাউ। তবে এই টিপিকাল রোব্বার-প্রীতির কারণ কী?

ছবি সৌজন্য : গুগল বাবাজি
কলেজ হোক বা আপিস, সেখানে ঘুমের এন্ট্রি নট। বিশেষ করে তাই রবিবারটাই অফিসিয়াল ঘুম দিবস। কিন্ত‍ু তাতেও ব্যাঘাত ঘটে যখন মা ঘুম থেকে টেনে তুলে হাতে বাজারের থলি ধরিয়ে দেয়।
                                      
লোকে আরও বলে, সকালে গরম লুচি, সাদা আলুর তরকারি আর দুপুরে পাঁঠার ঝোলই নাকি রবিবারের আসল মজা। আর যাদের সকাল শুরুই হয় বেলা ১২ টার পর? জানতে ইচ্ছা করে গরম লুচিটা তারা স্বপ্নে খান না কি লাঞ্চে। আর এই দুর্মুল্যের বাজারে পাঁঠার প্রসঙ্গটা না হয় আর নাই তুললাম। পকেট আর মন, দুটোতেই যে কষ্ট হবে।
                             
ছবি সৌজন্য : গুগল বাবাজি
পাঁঠা না হোক, হাল্কা করে মুরগীই না হয় হল দুপুরে। এবার? ভাতঘুম। সাধু সাধু!


ধর গুছিয়ে মুরগীর ঝোল দিয়ে চাট্টি গরম ভাত সাঁটিয়ে, হাল্কা করে ফ্যানটা চালিয়ে গড়াতেই যাচ্ছ, এমন সময়... চোখে পড়ল সারা সপ্তাহের জমানো কাপড়গুলো। অবশ্যই যেগুলো কাঁচতে বেমালুম ভুলে গেছো। বা দেখতে পেলে চুলের ছাঁট-টা বিগড়েছে, মুখটাও ফ্যাকাশে লাগছে, অথচ সামনেই বিয়েবাড়ি। কিংবা পেতে পার কোন পরম আত্মীয়ের ফোন। হয়ত দলবল নিয়ে আসছে তোমার বাড়ি, তোমার সাথে “রোব্বার” কাটাবে বলে। ব্যাস, ঘুম স্বপ্নেই থেকে গ্যালো।
                             
দুপুর তো গড়িয়েই গ্যালো। বাকি রইল বিকেল। রবিবারের বিকেলের চেয়ে নির্মম নির্দয়ী আর কী হতে পারে? তিলে তিলে মনে করাবে শিয়রে সোমবার। ঠিক যেন সাইক্লোনের পুর্বাভাস। এই এল বলে... জাস্ট মেন্টাল টর্চার।
ছবি সৌজন্য : গুগল বাবাজি
আর রবিবারের রাত? শেষমেষ ঘুমও সঙ্গ ছেড়ে পালায়। তারপর ঘড়িতে বাজে ১২টা। রবিবার তোমাকে ষড়যন্ত্র করে সোমবারের হাতে ফাঁসিয়ে দিয়ে চুপচাপ ৬ দিনের জন্য সরে পরে। ঘোর চক্রান্ত!
                                
এতকিছুর পরও আমরা সেই রবিবারের অপেক্ষাতেই বসে থাকি! ঠিক যেমন এক্স বয়ফ্রেন্ড বা গার্লফ্রেন্ডের ফেসবুক আর ইন্স্টাগ্রাম প্রোফাইলে ঢুঁ না মেরে থাকা যায়না, রবিবারকে উপেক্ষা করেও বাঁচা যায় না। তা সে যতই নির্মম হোক। রবিবারের রঙবাজী রিজেক্ট করা মুসকিলই নয়, নামুমকিন।

April 24, 2015

ভুতের রাজা দিল বর

নিজের চোখকে বিশ্বাস হচ্ছেনা মোটে! এটা কি সত্যি?

***

ভয় যে একটু করছে না তা নয়। অমন ভুষভুষে কালো চেহারা, মুলোর মত দাঁত, অদ্ভুত মিহি গলা আর গোল গোল চোখ। এবার তো মনে হয় মুচ্ছো যাব...
              
***

নাহ্ মুচ্ছো গেলাম না। কিন্ত‍ু এই দৃশ্য যে আর নিতে পারছি না। একি সত্যিই ভুতের রাজা?

***
ছবি সৌজন্য : গুগল বাবাজি

“কি চাই কি চাই
কত চাই কটা চাআআ.....ই।”
সেই বহুদিনের চেনা গানটা নাঁকি সুরে আবার শুনতে পেলাম। হাত পা কেমন ঠান্ডা হয়ে আসছে...
ঠিক বুঝতে পারছিনা। স্বপ্ন-টপ্ন দেখছি না তো।
একপ্রস্থ চোখ ডলার পরও সেই মূর্তি আবার দেখতে পেলাম। চারিপাশে টিমটিম করে জ্বলছে আলো আর তার মাঝে ভুতের রাজা। কেমন জুলজুল করে তাকিয়ে আছে।


***

তাহলে এটা স্বপ্ন নয় সত্যি? ভুতের রাজা বর দেবে? আমাকে?

***

একটা অদ্ভুত নিঃস্তব্ধতা। শুধু ঝিঁ ঝিঁ পোকার ডাক, আমি আর ভুতের রাজা।
চাইবো? একটা বর চেয়েই দেখি। সামনে থেকে অফার আসছেই যখন।
                
কিন্ত‍ু কী চাইবো? সামনেই পরীক্ষা, পাস করার বর? উফ্ তাহলে আর পড়তে হবে না। বা সোজা সরকারী চাকরি?
নাহ্ টাকা চাই বরং। তাহলে পড়াশুনা চাকরি কিচ্ছু নিয়ে ভাবতে হবে না।
উহু... এত টাকা একসাথে পেলে উটকো চাপ হয়ে যেতে পারে...
তার চেয়ে বরং গুপি বাঘা কে ফলো করাটাই সেফ। যেখানে খুশী সেখানে যেতে চাইলে যাতায়াত খরচা বাঁচবে। উফ্... অটোওয়ালা আর বাসভাড়া তো আর সামলাতে হবে না। যা খুশী তাই খেতে পেলে রোজ পিৎজা উইথআউট এনি খরচা। আর গান বাজনা জানলে বয়ফ্রেন্ড পটানোও জলবৎ তরলং হয়ে উঠবে। বরং ঢাকের বদলে গিটার বাজানোর বরটা চাইবো। লাইফ সেট!

***

“তাই হবে তাই হবে তাই হবে...”
আবার সেই নাঁকি গলায় মিহি সুর আর শেষে ভুতের রাজার মিলিয়ে যাওয়া, এতদুর মনে আছে।
বাকীটা শুধুই নিরাশা...
ঘুম থেকে উঠে যখন হাততালি দিয়ে গরম এক কাপ আদা দেওয়া চা পাওয়ার চেষ্টা করলাম তখন বুঝলাম... স্বপ্নই দেখছিলাম।
এমনকি সোফা থেকে উঠে পাশের ঘরে যাওয়ার জন্যও আমাকে নিজের পদযুগলকেই কষ্ট দিতে হল। গান গাওয়ার চেষ্টার ফল আরো বেদনাদায়ক হল। মা এসে কানটা মুলে দিয়ে গেল।

ভুতের রাজা এ তোমার কী বর-বর ছলনা? আহা সত্যিই যদি তুমি এসে একটি বার আশ্বাসটি দিতে...

রাজামশাই শুনছেন কী?

April 23, 2015

জোলো কেক Vs. মিষ্টি দই

চকলেট, মিল্ক, ফ্রুট... উইথ এগ আর এগলেস... কেক অনেক খেয়েছি। কিন্ত‍ু ওয়াটার কেক? জলের ও যে কেক হয় তা তো জানতাম না! কিন্ত‍ু water cake is very much there! এটি একটি জাপানী খাদ্য, থুড়ি, মিষ্টি। জিলাটিন পাউডার, চিনির গুঁড়ো আর প্রচুর জল দিয়ে তৈরী একধরনের স্বচ্ছ জেলিসম মিষ্টি। মিজু শিনগেন মোচি, মানে ঔ ওয়াটার কেক সার্ভ করা হয় ব্রাউন সুগার সিরাপ আর রোস্টেড সোয়াবিন পাউডার সহযোগে।

ছবি সৌজন্য : গুগল বাবাজি
রেসিপিটা তো বেশ ইউনিক! লোকমুখে প্রচারিত যে এই ওয়াটার কেক না কি সার্ভ করার ৩০ মিনিটের মধ্যে না উদরস্থ করলেই হাওয়া। এতই ডেলিকেট এই ফ্রোজেন ডেসার্ট যে সাধারন তাপমাত্রার সংস্পর্শে এলেই না কি গলে মিলিয়ে যায়। মজার ব্যাপার!
          
আচ্ছা এমন একটা ম্যাজিক ডেসার্ট যদি আমাদের শহরেও আসে... কেমন হবে? বিশেষ করে বাঙালির মত এক মিষ্টিরসিক জাতীর তো এই মিষ্টি চেখে দেখাটা জন্মগত অধিকার! উফ্ কাল যদি শুনি বলরাম মল্লিক বা সেন মহাশয় এবার এই জাপানী মিষ্টি বানাবে... দারুন হবে না?

মিজু না মোচি? কলকাতায় এলে ঔ জলীয় কেকের কী নাম হবে? রসগোল্লা বা রাজভোগের মত কোন গালভড়া নামই হওয়া উচিৎ। কিন্ত‌ু এতো জলভরা নয়... শুধুই জল দিয়ে গড়া! জাপানে না কি একে আবার অদৃশ্য কেক ও বলে। মজার নাম, কিন্ত‌ু... এত হাল্কা-ফুল্কা নাম কী আর আমাদের মত মিষ্টি-পিপাসুদের পোশাবে?
আচ্ছা নাম নিয়ে নাহয় পরে ভাববো... আগে আসি স্বাদের কথায়। বাঙালির রসনাকে তৃপ্ত করা কিন্ত‌ু মোটেও সহজ না। রীতিমত পরীক্ষা দিতে হবে মিজুকে।
ছবি সৌজন্য : গুগল বাবাজি

“ধুর! অদৃশ্য কেক খাওয়ার চেয়ে তো কিছু না খাওয়াই বেটার!” আমার এক বন্ধুর ধারনা তাই। ঠিকই তো। ভাই আমাদের এত সুন্দর সন্দেশ, রসগোল্লা আর ক্ষীরকদম ছেড়ে কেন হাওয়া আর জল খাব?“কে সি দাসের মিষ্টি দই খেলে না জাপানীরাও তাদের ঔ ওয়াটার কেক ভুলে যাবে।”

নাহ্, বন্ধুর এই উক্তিকে চ্যালেঞ্জ করার সাধ্যি আমার নাই!

আবার ধর ভাবলে বাড়িতে অতিথি এলে তুমি টুক করে পাড়ার দোকান থেকে ওয়াটার কেক এনে খাইয়ে সবাইকে তাক লাগিয়ে দেবে তা হচ্ছে না। ঔযে আগেই বলেছি, মাত্র ৩০ মিনিটের মধ্যে না খেলেই কেক হাওয়া। ধর তোমার মাসি বা পিসি তুলতুলে ওয়াটার কেক মুখে দিতে গিয়েই দেখল নাই! রীতিমত প্রেস্টিজ পাংচার!
ছবি সৌজন্য : গুগল বাবাজি

অতএব, বাঙালি মিষ্টান্ন জিন্দাবাদ! বন্যরা বনে সুন্দর আর মিজু জাপানে। জলের কেক থাক নাহয় একটা জলভরা সন্দেশ খেয়ে আসি...

April 22, 2015

ও হে সুন্দরী...

কালোহরিণ চোখ। পুষ্পপল্লবের ন্যায় ওষ্ঠ। সুন্দর কেশরাশি...

আহা... কী সুন্দর! উঁহু শুধু সুন্দর নয়, অতীব সুন্দর। বলা যায় খাঁটি সুন্দরী।

বিয়েবাড়িতে ভারী কনফিউশান, কনে কে দেখবো না কনের বান্ধবীদের। মেকাপে কেউ কাউকে ছেড়ে কথা কয় না যে।

পুজোবাড়িও বা বাদ যায় কেন এই কনফিউশান থেকে। কখনো কখনো তো মনে হয় সুন্দরী ব্রিগেডকে জেল্লায় টক্কর দিতে যেন দেবী দুর্গাও রীতিমত হিমসিম খাচ্ছে। দশহাত দিয়েও সামলাতে পারছে না রুপ।

অতএব, থিম ও মুর্তির মেকওভার অনিবার্য। ছেলেপুলেরা আবার কনফিউশড্, কাকে দেখবে? দেবী দুর্গার মাটির মুর্তি না আশেপাশে ঘুরে বেড়ান রক্ত মাংসের সুন্দরী মুর্তি।

এখন নাকি লাল লিপস্টিকের যুগ? নিন্দুকেরা বলতেই পারে... লাগবে পুরো রক্তখেকো।

ছবি সৌজন্য : গুগল বাবাজি

সুন্দরীরা বলবে “লাগুক”।

ছবি সৌজন্য : গুগল বাবাজি











ধোঁয়াটে চোখ? থুরি স্মোকী আই মেকাপ। কালোহরিণ চোখের কনসেপ্টটা বড়ই সিরিয়াসলি নিয়ে ফেলেছে মনে হচ্ছে? হুহ! কুছ পরোয়া নহি। এমন স্মোকী এফেক্ট এড়াবার সাধ্য আছে কারোর?চোখে পড়তে বাধ্য।

কালো থেকে ফর্সা, ফর্সা থেকে আরও ফর্সা। এসব তো সুন্দরীদের কাছে এখন জলভাত। মোটেও চ্যালেঞ্জিং নয় আর।

ছবি সৌজন্য : গুগল বাবাজি
চুল নিয়ে চুলচেড়া বিশ্লেষনের পর এখন হেয়ার স্টাইল নিয়েই বা আর ভাবনা কী? শুধু একজন মোক্ষম স্টাইলিস্ট পেলেই হল। একটা জম্পেস কাট and you’re done.

তাহলে... শেষমেষ কী দাঁড়াল?

মেকাপ ট্রিকস্ দিয়ে কাত করা যায় না এমন কোন সমস্যাই আজ আর নাই। সেইজন্যই, সুন্দরীদের জেল্লা কমারও কোন ভয় নেই। মেকাপের ক্ষমতা এককথায় অপরিসীম।

কিন্ত‌ু... যদি এই মেকাপ বিদ্রহ ঘোষনা করে?

এই ধর মে মাসের দুপুর, বাতাসে আপেক্ষিক আদ্রতা ৯৫% আর টেম্পারেচার(নাহ্ সেটা মনে হয় আর বলতে লাগবে না), এসবের মাঝে একটু মেকাপ আর একরাশ ঘামাচি।

ছবি সৌজন্য : গুগল বাবাজি

মেকাপ থাকলে স্মাজড্ মেকাপের ভয়ও কিন্ত‍ু আছে। তখন আর কোথায় সুন্দরী? শুধুই কালিঝুলি।

এই স্মাজড্ মেকাপের ভয় কিন্ত‍ু বিশ্বের তাবড় তাবড় সুন্দরীদেরও কাঁপিয়ে দিতে পারে। আর তাইতো স্মাজপ্রুফ কাজল আর লিপস্টিকের এত কদর। শুধু দেখলে হবে? সুন্দরী হওয়ারও খরচা আছে।

এত কষ্ট করা শুধু সুন্দরী সাজার জন্য? লিপস্টিক না কিনে যদি মনটা একটু সাজানো যায়? নাহ্ সুন্দর মনের মেকাপ কিন্ত‌ু গরমে আর ঘামাচিতে স্মাজড্ হয় না। তাই চাপটাও কম। কী বল বন্ধুগন?